‘ধর্ষণ শেষে কাউকে না বলতে কোরআন শপথ করাতো’ মুহ্তামিম

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৯, ০৫:৩৯ পিএম

নেত্রকোনা কেন্দুয়া উপজেলার পৌর এলাকায় বাদে আঠারবাড়ি মা হাওয়া (আ.) কওমি মহিলা মাদ্রাসায় অধ্যক্ষের (মুহ্‌তামিম) বিরুদ্ধে দুটি ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়েছে।

থানায় আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই শিক্ষক এক বছরে ছয় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই থানার ওসি রাশেদুজ্জামান।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আবুল খায়ের বেলালী স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের সহায়তায় ২০১৫ সালে অত্র মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে অধ্যক্ষের (মুহ্তামিমের) দায়িত্ব পালন করে আসছিল।

শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে মাদ্রাসার মুহ্‌তামিম শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীকে (১১) তার কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় শিশুটির চিৎকারে অন্য শিক্ষার্থীরা ছুটে এসে অধ্যক্ষকে হাতেনাতে ধরে ফেলে।

পরে এলাকাবাসী মুহতামিমকে গণধোলাই দেয়। পুলিশ খবর পেয়ে ধর্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. শাহজাহান মিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টা দিকে ফেসবুক আইডিতে লেখেন, ধর্ষক বেলাল একজন দাওরায়ে হাদিস (সিলেট বালুরচর কওমি মাদ্রাসা হতে) মাওলানা, একজন বক্তা, একজন ইমাম এবং শুক্রবারের জুমার নামাজের একজন খতিব।

তিনি আরো জানান, শুক্রবার জুমার নামাজে মাওলানা আবুল খায়ের বেলালীর বয়ান শোনার জন্য আধা ঘণ্টা আগে মুসল্লিরা এসে অপেক্ষা করেন মসজিদে। কেন্দুয়ার আঠারবাড়ি এলাকায় মা হাওয়া (আ:) কওমি মহিলা মাদ্রাসায় প্রায় ৩৫ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রী যাদের মধ্যে ১৫ জন আবাসিক। সেখানে ওই মুহ্‌তামিমও আবাসিক।

এই পুলিশ কর্মকর্তা ফেসবুকে আরো লেখেন, সময় সুযোগ বুঝে তিনি কলিং বেল চাপেন আর ওনার পছন্দমতো একজন কোমলমতি ছাত্রীর ডাক পড়ে তার গা-হাত-পা টিপে দেওয়ার জন্য। আর একপর্যায়ে সেই অবুঝ শিশুরা মুহ্তামিমের লালসার শিকার হন। ধর্ষণ শেষে আবার কোরআন শরিফ হাতে দিয়ে শপথ করান, কাউকে কিছু না বলার জন্য, বললে কিন্তু আল্লাহ তোমাকে দোজখের আগুনে পোড়াবেন। ভয়ে কোমলমতি ছাত্রীরা কাউকে কিছু বলেন না। কিন্তু এক সাহসী বীরাঙ্গনা সেই ভয়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে জয়ী হয়। বলে দেয় তার বড় বোনসহ বাড়ির সবাইকে সেই যন্ত্রণার মুহূর্তের কথা। স্থানীয় এলাকাবাসীর সহায়তায় আটক হন সেই হুজুররূপী ধর্ষক। থানায় আটক থাকা অবস্থাতেই আরো একজন শিশুশ্রেণির ছাত্রীর অভিযোগ জমা পড়ে। দুইটি ধর্ষণ মামলা হয়েছে তার নামে।

তিনি আরো লেখেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পেয়েছেন, গত এক বছরে আরো মোট ছয় ছাত্রীর সঙ্গে অনুরূপ কুকর্ম করেছেন ওই মুহ্তামিম। যাদের বয়স ৮ থেকে ১১’র মধ্যে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কিছু আলামতের সঙ্গে সেই কলিং বেল’টিও  জব্দ  করা হয়েছে, যা আদালতে উপস্থাপন করা হবে। ধর্ষক হুজুরকে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে তিনি লিখেছেন।

এ ব্যাপারে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুজ্জামান জানান, ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শুক্রবার রাতেই দুইটি ধর্ষণ মামলা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত