তিন মাসের ব্যবধানে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী বিভিন্ন ফ্লাইটের ভাড়া দ্বিগুণ হয়েছে। বেশ কয়েকটি বিদেশি বিমান কোম্পানি ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়ার পর ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে অন্য সংস্থাগুলো। এ ছাড়া ফ্লাইটগুলোতে চলছে তীব্র আসনসংকট। বর্তমানে হজ ফ্লাইটের কারণে চাহিদা বাড়ায় এ সংকট আরও তীব্রতর হয়ে উঠছে। ফলে সময়মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যেতে পারছেন না বাংলাদেশি শ্রমিকরা। আবার অনেক শ্রমিক ছুটিতে দেশে আসার পর নির্দিষ্ট সময়ে ফিরতে না পারায় তাদের ভিসা বাতিল হয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী ও সচিব মো. মহিবুল হকের কাছে আবেদন করেছে ট্রাভেল এজেন্টগুলোর সংগঠন অ্যাটাব।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটাব প্রেসিডেন্ট এস এন মঞ্জুর মোর্শেদ (মাহবুব) গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, কয়েকটি বিদেশি কোম্পানি ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট বন্ধ করার কারণে মধ্যপ্রাচ্যগামী উড়োজাহাজে আসনসংকট তীব্র হয়ে পড়ছে। এই সুযোগে এয়ারলাইনসগুলো ভাড়া দ্বিগুণ করে দিয়েছে। ভাড়া বেশি হওয়ায় শ্রমিকরা কাজের সন্ধানে মধ্যপ্রাচ্যে যেতে পারছেন না। আবার আসনসংকটের কারণে অনেকে ছুটিতে দেশে আসার পর সময়মতো টিকিট না পাওয়ায় কাজে ফিরতে পারছেন না। এতে অনেক শ্রমিকের ভিসা বাতিল হয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, সংকটময় এ পরিস্থিতি জানিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী ও সচিবকে চিঠি পাঠিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কেও সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করেছি। আশা করছি, সরকার সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেবে।
অ্যাটাব বলেছে, সম্প্রতি ইত্তেহাদ এয়ারওয়েজ, ওমান এয়ার ও ফ্লাই দুবাই ঢাকা থেকে তাদের ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করে দেওয়ার কারণে বহিঃগমনে আসন ধারণক্ষমতা কমে গেছে। অন্যদিকে ওমরাহ ও হজ পালনকারী যাত্রীদের সংখ্যাও বেড়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যাত্রীর সংখ্যাও বাড়ছে। ফলে দেশের মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের জন্য সংশ্লিষ্ট ভ্রমণপথে ব্যাপক আসনসংকট সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভ্রমণকারীর সংখ্যা বেড়ে থাকে। তাই এ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা সংগঠনটির।
আসনসংকটের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন এয়ারলাইনস তাদের খেয়াল খুশিমতো ভাড়া বাড়াচ্ছে উল্লেখ করে অ্যাটাব বলেছে, ঢাকা-রিয়াদ রুটে ফেব্রুয়ারিতে টিকিটের মূল্য ছিল ২২ হাজার, তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার টাকায়। আবার ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা-রিয়াদ রুটে টিকিটের মূল্য ছিল ২৪ হাজার, যা এখন ৪৮ হাজার টাকা।
‘এয়ারলাইনসগুলো নিয়মনীতিবহির্ভূতভাবে ভাড়া বৃদ্ধির ফলে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো বিশেষ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। কারণ অনেক যাত্রীর মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে যে টিকিটের ভাড়া ট্রাভেল এজেন্সিই নির্ধারণ করে থাকে। তা ছাড়া, ভাড়া বৃদ্ধির কারণে বিদেশগামী যাত্রীরাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বা হবেন, যাদের অধিকাংশই শ্রমিক শ্রেণির। তারা তাদের কাজের তাড়নায় এই অধিক ভাড়ায় ভ্রমণ করতে বাধ্য হচ্ছেন এবং বিপুলভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।’ যোগ করেছেন অ্যাটাব সভাপতি।
প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্সের গুরুত্ব বিবেচনা করে সংকট সমাধানে মধ্যপ্রাচ্যের ভ্রমণপথে আগ্রহী এয়ারলাইনসকে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছে অ্যাটাব।
অ্যাটাব বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে আসনসংকট ও উচ্চ ভাড়া নেওয়া হলেও এ বিষয়ে ফলপ্রসূ কোনো সমাধান হচ্ছে না।
এতে যাত্রীরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইটে আসনসংকট সমাধানে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা ও ভাড়া নিয়ন্ত্রণসহ নতুন এয়ারলাইনস যেন বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারে, সে জন্য ওপেন স্কাই ঘোষণা করার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।
