চার সমস্যায় ঘুরপাক খাচ্ছে ব্যাংক খাত

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৯, ১০:১১ পিএম

খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট, ঋণের উচ্চ সুদহার ও পরিচালন মুনাফা এই চার সমস্যায় ঘুরপাক খাচ্ছে ব্যাংক। এতে পুরো ব্যাংক খাত দুরবস্থায় পতিত হয়েছে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে গতকাল শনিবার ‘ব্যাংক ও আথিক প্রতিষ্ঠানের তথ্যসমৃদ্ধ গবেষণাগ্রন্থ ব্যাংকিং অ্যালমানাক ২০১৭’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন দেশের অর্থনৈতিক বিশ্লেষক, ব্যাংকার ও গবেষকরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এ বি মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক জামাল উদ্দিন, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, সাবেক ডেপুটি গভর্নর নজরুল হুদা, এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, সাপ্তাহিক শিক্ষা বিচিত্রার সম্পাদক আবদার রহমান, নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ জিয়াউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

এ বি মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, দেশের ব্যাংক খাত সমস্যার মধ্যে চলছে। প্রকৃত তথ্যের অভাবে অপাত্রে ঋণ যাচ্ছে। যারা ঋণ পাওয়ার যোগ্য নয় তারাই ঋণ পাচ্ছে। এতে বাড়ছে ঋণখেলাপি। এটি ব্যাংক খাতের মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নন-পারফরমিং লোন (খেলাপি ঋণ) নিয়ে প্রকাশিত তথ্য খেলাপির প্রকৃত চিত্র নয় জানিয়ে তিনি বলেন, ঋণখেলাপির বিবরণীতে পুনঃতফসিল ও রাইট অব করা ঋণের তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। এতে প্রকৃত ঋণখেলাপির তথ্য প্রকাশ হচ্ছে না। এটি যোগ করলে নন-পারফরমিং লোন আরও বাড়বে। তাই  খেলাপি ঋণ কমাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে গবেষণাধর্মী বই সহযোগিতা করবে।

ব্যাংক খাতের চার সমস্যা উল্লেখ করে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, এ খাতে স্ববিরোধী পরিসংখ্যান দেখা যাচ্ছে। খেলাপি ঋণ বেড়ে যাচ্ছে, তারল্য সংকট চলছে, ঋণের সুদহারও উচ্চ। অন্যদিকে ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা বাড়ছে। এটা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ব্যাংক খাতে বিভিন্ন বৈষম্য চলছে এমন একটি উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দেশি ব্যাংকগুলো বেশিরভাগ আমানত সংগ্রহ করে। কিন্তু ঋণ বণ্টনের সময় সুবিধা পাচ্ছে একটি বিশেষ গোষ্ঠী। এটি এক ধরনের বৈষম্য। এটি কমাতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, আমাদের ব্যাংক খাতের ৭০ শতাংশ ঋণ দীর্ঘমেয়াদি। কিন্তু বেশিরভাগ আমানত স্বল্পমেয়াদি। এ থেকে বের হতে না পারলে এ খাত স্থিতিশীল করা কঠিন। কারণ, আমাদের বিকল্প শক্তিশালী কোনো বন্ড মার্কেট নেই। অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ডাটা একসঙ্গে পাওয়া যাবে এই বইয়ে। বৈদেশিক বাণিজ্য, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও ব্যাংকের অবস্থা জানতে এ গ্রন্থটি সহায়তা করবে। তবে গ্রন্থটি গবেষণা কাজে আরও কার্যকর করতে হালনাগাদ তথ্য দিয়ে প্রকাশের দাবি জানানো হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত