মসজিদকে ব্যবহার করা হচ্ছে নদীতীর দখলে : নৌ প্রতিমন্ত্রী

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৯, ০২:১৮ এএম

নদীর তীর দখলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল শনিবার রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের খোলামোড়া ঘাটে নদীরক্ষা প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ বলেন, চলমান উচ্ছেদ অভিযানে নদীর

জায়গায় ৪৮টির বেশি মসজিদ পাওয়া গেছে। প্রথমে মসজিদ নির্মাণ করে জায়গাগুলোকে দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণের মাধ্যমে নদী দখলের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘কোনো সরকারি জায়গায় অথবা বিতর্কিত জায়গায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা মসজিদ করার অনুমতি দেয়নি ইসলাম ধর্ম।’

বুড়িগঙ্গাকে দখলমুক্ত করতে সার্বিক সহযোগিতার জন্য জনগণকে ধন্যবাদ জানান নৌ প্রতিমন্ত্রী। সেই সঙ্গে দখলদারদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘নদী দখলমুক্ত করতে যারাই বাধা দেবে, তাদের কোনোভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না। ছাড় দেওয়া হবে না।’

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘পদ্মা-মেঘনা-যমুনা তোমার আমার ঠিকানাÑএটা ছিল একসময় আমাদের পরিচয়, কিন্তু আমাদের সেই পরিচয় হারিয়ে যেতে বসেছে। আমাদের বুড়িগঙ্গা নদী শুকিয়ে গেছে, হারিয়ে যাচ্ছে। নদী দখলের ব্যাপারে রাষ্ট্র পূর্বে কোনো যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি, তাই নদীগুলোকে দখল করেছে, সাথে সাথে আমাদের পরিচয় পর্যন্ত বেদখল হয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, ‘পঁচাত্তর-পরবর্তী জিয়া, এরশাদ, খালেদা সরকার লুটপাট করেছে, নদী দখলে সহযোগিতা করেছে, আমরা সেই নদী দখলমুক্ত করব।’

নৌ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নদীর নাব্য না থাকার কারণেই সামান্য পাহাড়ি ঢলে সারা দেশ ডুবে যাচ্ছে, তাই এসব নদীকে রক্ষা করতে হবে, নদীর খনন করতে হবে। বুড়িগঙ্গা-তুরাগ এমন একটি পরিবেশ হবে, মানুষের জীবিকার উৎস হবে এই নদীগুলো।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্র্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান এয়ার কমোডর এম মাহবুব-উল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিম, ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য কামরুল ইসলাম, নৌ পরিবহন সচিব আবদুস সালাম প্রমুখ।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত