ভারতের সম্ভাবনা বেশি অস্ট্রেলিয়া ইংল্যান্ড সমান সমান

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০১৯, ০১:২৫ এএম

আমি আগেই বলেছিলাম যারা ভালো বোলিং করবে, তারাই এবারের বিশ্বকাপ জিতবে। ইংলিশ কন্ডিশন এবং ফরম্যাট দেখেই এটা বলেছি। খুব খেয়াল করে দেখবেন সেমিফাইনালে কিন্তু সেই চারটা দলই গিয়েছে, যারা এই টুর্নামেন্টে সেরা বোলিং এবং ফিল্ডিং করেছে। ৮৫ শতাংশ মানুষই যারা খেলাটা বোঝেন, তারা আগেই বলেছেন যে সেমিফাইনাল

           

খেলবে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ড। আমরা বাংলাদেশি বলেই হয়তো বাংলাদেশকে চতুর্থ দল হিসেবে নিউজিল্যান্ডের জায়গায় রেখেছিলাম সেমিফাইনালে। কিন্তু বড় অংশই ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের নাম বলেছিলেন সেমিফাইনালিস্ট হিসেবে। চতুর্থ দল হিসেবে সবাই নিজেদের দেশকে রাখতে চেয়েছে। কিন্তু এই ধরনের কন্ডিশন বলেন, কিংবা বিশ্বকাপের আগের সময়টায়Ñ নিউজিল্যান্ড ভালো ক্রিকেট খেলেছে। আইসিসি ইভেন্টের রেকর্ডস দেখা হলে নিউজিল্যান্ড বেশিরভাগ সময় কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল খেলেছে। নিউজিল্যান্ড ১১ পয়েন্ট পাওয়া পর্যন্ত খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে। এরপর কিন্তু ভালো ক্রিকেট খেলতে পারেনি। একই সঙ্গে ওদের ভাগ্যও সমর্থন দিয়েছে। ১১ পয়েন্ট পেতে ভাগ্য বড় সহায়ক ছিল। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটাই তারা জিতেছে ভাগ্যের সহায়তায়। উইন্ডিজ ম্যাচেও ভাগ্য সহায় করেছে। তবে বাকি তিনটা ম্যাচ তারা সেটা ধরে রাখতে পারেনি। বাজেভাবে হেরে গেছে। তখন কিন্তু মনে হচ্ছিল তারা সেমিফাইনালের যোগ্য নয়। রানরেট ভালো থাকায় তারা পরের দিকে খারাপ খেলেও টিকে গেছে। শেষ তিন ম্যাচ খারাপ খেললেও আমি মনে করি সেরা ৪টি দলই উঠেছে সেমিতে।

চারটাই সেরা বোলিং অ্যাটাক। তাদের ফিল্ডিংও অসাধারণ। বোলিং ও ফিল্ডিং চমৎকার হওয়ায় তারা শেষ চারে গিয়েছে। যারা পারেনি, যেমন বাংলাদেশ পিছিয়ে গেছে তাদের বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা, আফগানিস্তানও তাই। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা শেষ দিকে ভালো বোলিংয়ের কারণে কিছুটা এগিয়ে গিয়ে পঞ্চম ও ষষ্ঠ হয়েছে।

ভারত এবারের বিশ্বকাপে সেরা ২-৩টি দলের মধ্যে একটি। তাদের বোলিং অ্যাটাকটা দুর্দান্ত। তাদের ব্যাকআপ বোলাররাও ভালো। রবীন্দ্র জাদেজার মতো ক্রিকেটার বসে আছেন বেশিরভাগ ম্যাচে। শামির মতো বোলার বসে ছিলেন শুরুর দিকে। ভুবনেশ্বরের ইনজুরির কারণে দলে এসে প্রায় প্রতি ম্যাচে ৪টা ৫টা করে উইকেট নিচ্ছেন। এছাড়া ভুবনেশ্বর, পান্ডিয়াও খুব ভালো করছেন। দুই স্পিনার চাহাল ও কুলদীপ তাদের কাজটা ঠিকই করে যাচ্ছেন। ব্যাটিংয়ে রোহিত শর্মা এক কথায় অবিশ্বাস্য। ৫ সেঞ্চুরি করে রেকর্ড করে ফেলেছেন। রাহুলও শেষ ম্যাচে সেঞ্চুরি পেয়েছেন। কোহলি তো আছেনই। ধোনি শুরুতে ধীরে খেললেও শেষে ভালো ফিনিশ করছেন। রানরেট বাড়িয়ে দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে ব্যাটিংটাও ওদের ব্যালান্সড। সেমিফাইনালে আমি মনে করি ভারত অপেক্ষাকৃত সহজ প্রতিপক্ষ পেয়েছে নিউজিল্যান্ডকে। যেহেতু শেষ তিন ম্যাচ নিউজিল্যান্ড ভালো ক্রিকেট খেলেনি, তাই আমার কাছে মনে হচ্ছে ভারতের জন্য তারা সহজ প্রতিপক্ষ। তবে একটু মেঘাচ্ছন্ন কন্ডিশন এবং সিমিং উইকেট থাকলে কিন্তু নিউজিল্যান্ড ভয়ংকর দল। পেস অ্যাটাক ওদের খুবই চমৎকার। ভারতের টপ তিন ব্যাটসম্যানকে প্রথম ২০ ওভারের মধ্যে ফিরিয়ে দিতে পারলে কিন্তু ভারতের জন্য বিপদ হয়ে যেতে পারে। শীর্ষ ৩ ব্যাটসম্যান ভালো না করলে নিউজিল্যান্ড যতই খারাপ খেলুক তিন ম্যাচে, বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে বলেই ভারতের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। উইলিয়ামসন ব্যাট হাতে একাই টেনে নিচ্ছেন নিউজিল্যান্ডকে। ও খারাপ করলেই দল খারাপ করছে। এটা মোটেই ভালো নয়। আমার কাছে মনে হয় ওপেনার গাপটিলের জ্বলে উঠতে না পারাটা নিউজিল্যান্ডের বড় সমস্যা। প্রথম দু’ম্যাচে দু’জন ওপেনারই ভালো করেছিলেন। এরপর থেকে তারা একেবারেই ভালো সূচনা দিতে পারছেন না। সেমির অন্য তিন দলের ওপেনাররা কিন্তু ভালো করছেন। নিউজিল্যান্ড এ জায়গাটায় পিছিয়ে থাকছে। তবে গাপটিল অনেক বড় মাপের খেলোয়াড়। তিনি স্বচ্ছন্দ ব্যাটিং করে দিনটা নিজের করে ফেলতে পারেন। এর সঙ্গে মিডল অর্ডারে তাদের ভালো করতে হবে। নিউজিল্যান্ডের বোলিং অ্যাটাক খুব ব্যালান্সড। বোল্ট এবং ফার্গুসন পুরো বিশ্বকাপ জুড়েই ভালো করছেন। বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ডের প্রধান বোলার ছিলেন টিম সাউদি। তিনিও কিন্তু বিশ^কাপে নিয়মিত খেলতে পারছেন না।

এক ম্যাচ আগেও সবাই ভেবেছিল অস্ট্রেলিয়া শীর্ষে শেষ করে সেমিফাইনাল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে। কিন্তু শনিবার সব হিসাব উল্টে গেছে। ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচে ভারতের ষাটভাগ জয়ের সম্ভাবনা থাকবে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড ম্যাচ হবে ৫০-৫০। দু’টি দলই খুব ব্যালান্সড দল। শেষ চার বছর ইংল্যান্ড অসাধারণ ক্রিকেট খেলেছে। আর এই বিশ^কাপে অস্ট্রেলিয়া অসাধারণ ক্রিকেট খেলছে। এই বিশ^কাপ এবং বিশ^কাপের ঠিক আগে অস্ট্রেলিয়া ফর্মে ফিরে এসেছে। ১৭টা ম্যাচের ১৫টিই তারা জিতেছে। অস্ট্রেলিয়ার বোলিং অ্যাটাক অসাধারণ। মিচেল স্টার্ক তার সেরা ফর্মে আছেন। সেমিফাইনালে আর ১ উইকেট নিলে এক বিশ^কাপে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড তার হয়ে যাবে। ওয়ার্নার চমৎকার খেলছেন। স্মিথের কাছ থেকে যেটা আশা করা হচ্ছে সেটা এখনো তিনি দিতে পারেননি। হয়তো নকআউট ম্যাচে উনি জ¦লে উঠবেন। ইংল্যান্ড মাঝখানে খানিকটা মøান হয়েছিল পরপর দু’টি বাজে ম্যাচ হেরে। কিন্তু শেষ দু’ম্যাচে তারা স্বরূপে ফিরেছে। তারা ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলছে। বেয়ারস্টো শেষ দু’টি ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছেন। হোম কন্ডিশনে ইংল্যান্ডের জন্য এটাই সেরা সুযোগ প্রথম বিশ^কাপ জেতার। সবমিলিয়ে দু’টি দারুণ সেমিফাইনালের অপেক্ষায় থাকছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত