ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে’

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০১৯, ০২:২৯ এএম

এ বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ও ডেঙ্গুর ধরন নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মিলছে না বিশেষজ্ঞদের তথ্য। গতকাল রবিবার মশক নিধন কার্যক্রম বিষয়ক পর্যালোচনা সভায় মেয়র বলেন, আক্রান্তদের ৯৮-৯৯ শতাংশেরই ‘ক্ল্যাসিক্যাল ডেঙ্গু’ হচ্ছে, যা ৭-১০ দিনের মধ্যে চলে যায় এবং এতে তেমন ক্ষতির কারণ থাকে না। একই সঙ্গে এবার ডেঙ্গুতে মাত্র দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন মেয়র।

মেয়রের এ তথ্যের সঙ্গে মিলছে না বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তথ্য। তাদের মতে, এবার ডেঙ্গু আগের চেয়ে অনেক বেশি মারাত্মক হয়ে এসেছে। সেরোটাইপ-৩ নামে এ ডেঙ্গু হেমোরেজিক (রক্তক্ষরণ) ডেঙ্গুর চেয়েও মারাত্মক। আক্রান্তকে দ্রুত হাসপাতালে না আনলে পরি¯ি

নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম শামসুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত বছর থেকে ডেঙ্গুর নতুন ধরন (সেরোটাইপ-৩) দেখা দিয়েছে। এক্ষেত্রে রোগীদের ইন্টারনাল রক্তক্ষরণের পাশাপাশি শক-সিনড্রোম দেখা দেয়। এটা শুরুতেই জানা গেলে রোগীদের চিকিৎসায় এবং মৃত্যুঝুঁকি রোধে বিশেষ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এল ই ফাতমী বলেছেন, এবার যে ধরনের রোগী আসছে তাদের মধ্যে ডেঙ্গু হেমোরেজিক এবং শক সিনড্রোম বেশি পাচ্ছেন তারা।

অন্যদিকে মেয়র এবার ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর তথ্য জানালেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ জুন পর্যন্ত ৪৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল, যাদের মধ্যে দুজন মারা যান। এরপর আরও অন্তত তিনজনের মৃত্যুর বিষয়ে জানা গেছে, যাদের মধ্যে একজন চিকিৎসকও রয়েছেন।

সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় মেয়র বলেন, এ বছর এখন পর্যন্ত ২ হাজার ১০০ মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি।

সচিবালয়ে এই সভায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম ছাড়াও বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ছিলেন।

সভায় মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সব রকমের উদ্যোগ চলমান রয়েছে। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নেই। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের বাইরে এখনো যায়নি এবং খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে কমে আসবে। গত জানুয়ারি থেকে সারা দেশে ২ হাজার ১০০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৭৫ জন চিকিৎসা নিয়ে বাসায় গেছেন, চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩০০ জন। বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে থাকে। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার মনে হয়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ কিছুটা বেশি, যদিও মাত্র মৌসুম শুরু হয়েছে, ডেঙ্গুর মৌসুম শেষ হয়নি।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটি অ্যাম্বাসাডর নিয়োগ

মেয়র বলেন, ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে আমরা ইতিমধ্যে কমিউনিটি অ্যাম্বাসাডর নিয়োগ দিয়েছি। প্রত্যেকটি ওয়ার্ডকে চারটি ভাগে ভাগ করে একেকটি এলাকা থেকে মসজিদের ইমাম, শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী, সুশীল সমাজসহ সাতজন করে নাগরিক প্রতিনিধি নিয়ে একটি ওয়ার্ডে ২৮ জন কমিউনিটি অ্যাম্বাসাডর রয়েছেন। তারা বিষয়গুলো তদারকি করছেন। আমাদের স্প্রেম্যান যদি অনুপস্থিত থাকে তাহলে সহজেই চিহ্নিত করতে পারছি। রুটিন ওয়ার্কের বাইরে বিশেষ কার্যক্রম শুরু করি। বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সায়েন্টিফিক সেমিনারের আয়োজন করে করণীয় নির্ধারণ করি। প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ ও কার্যক্রমের সঙ্গে জনগণকে সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। জুমায় ইমামরা খুতবায় বয়ান দিচ্ছেন, শিক্ষকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে তারা অ্যাসেম্বলিতে বাচ্চাদের এ বিষয়ে সচেতন করে তুলছেন।

১৫ জুলাই থেকে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম

ডেঙ্গুসহ বর্ষা মৌসুমে যেসব রোগ বেশি হয় সেগুলোর চিকিৎসা দিতে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার সব ওয়ার্ডে আগামী ১৫ জুলাই থেকে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম নামানো হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র খোকন। তিনি বলেন, ৪৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পাড়া-মহল্লাভিত্তিক ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে অবস্থান নেবে। তার আগে এলাকাবাসীদের জানিয়ে দেওয়া হবে যদি কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকে বা ডেঙ্গু না হলেও যদি ঠা-া, কাশি, জ্বরসহ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন পড়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার মোবাইল টিম থেকে স্বাস্থ্যকর্মী ও ডাক্তাররা বিনামূল্যে তাদের চিকিৎসা দেবেন এবং ওষুধ সরবরাহ করবেন। ওই টিম কোনো রোগীকে হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন মনে করলে মহানগর জেনারেল হাসপাতাল, শিশু হাসপাতালসহ নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করানো হবে এবং চিকিৎসার ব্যয় দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বহন করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত