নড়াইলের দায়রা জজের বিচারিক ক্ষমতা জব্দ কেন নয় : হাইকোর্ট

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০১৯, ০২:৩০ এএম

হত্যামামলায় এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিকে বাদ দিয়ে অভিযোগ গঠন করায় নড়াইলের জেলা ও দায়রা জজ শেখ আবদুল আহাদের বিচারিক ক্ষমতা কেন জব্দ  করা হবে নাÑ এ মর্মে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। বিচারিক আদালতের ওই অভিযোগ গঠনের সিদ্ধান্ত বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে বাদীপক্ষের করা আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল রবিবার এ আদেশ দেয় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ। আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে বিচারককে রুলের জবাব ও কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ। বাদী নাজমুল হুদার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবদুল আলীম। আইনজীবীরা জানান, ২০১৫

 

সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নড়াইলের কালিয়ায় চ-িনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে মল্লিক মাজারুল ইসলাম ওরফে মাজাসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে সংঘটিত হামলায় গুলিবিদ্ধ ও পরে নিহত হন এনামুল নামে এক যুবক। এ ঘটনায় পরদিন ৬৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে স্থানীয় থানায় মামলা করেন এনামুলের বড় ভাই নাজমুল হুদা। 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ দেশ রূপান্তরকে জানান, এজাহারে উল্লেখ রয়েছে সংঘবদ্ধ আক্রমণের সময় প্রধান আসামি মাজারুল নিজে পাইপগান দিয়ে এনামুলকে গুলি করে। তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা মাজারুলসহ অন্যদের আসামি করে নড়াইলের সংশ্লিষ্ট আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এরপর নড়াইলের দায়রা আদালতের বিচারক গত ১০ জুন মাজারুলকে বাদ দিয়েই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। এতে বাদী সংক্ষুব্ধ হয়ে বিচারিক আদালতের এই আদেশ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন। গতকাল শুনানি শেষে হাইকোর্টের এই বেঞ্চ এক আদেশে আসামি মাজারুলকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি নড়াইলের ওই বিচারককে কারণ দর্শানোর পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে রুল জারি করেছে।

তিনি বলেন, ‘এনামুলকে গুলি করে হত্যার মতো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকার পরও তাকে বাদ দিয়ে অভিযোগ গঠন করা অনেকটা অস্বাভাবিক। এ নিয়ে বাদীপক্ষ আদালতের কাছে আবেদন করলে শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে।’ 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত