দ্রুত বিচার আইনের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৯, ০১:৪২ এএম

বহুল আলোচিত দ্রুত বিচার আইনের মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়িয়ে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাবটি পাসের সুপারিশ করেছে এ-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। গতকাল সোমবার ‘আইনশৃঙ্খলা বিঘকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সংশোধন) বিল-২০১৯’ পাসের সুপারিশ করে সংসদে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকু। চলতি অধিবেশনেই বিলটি পাস হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ‘প্রয়োজনীয়তার নিরিখে’ ছয় দফায় মোট ১৫ বছর বহুল আলোচিত এই আইনের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এর মেয়াদ আরেক দফা বাড়াতে গত ২৫ জুন সংসদে বিল উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন। পরে বিলটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।  বিদ্যমান এই আইন অনুযায়ী কারও অপরাধ প্রমাণিত হলে দুই থেকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে। এ আইনে ১২০ দিনের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন করার বিধান আছে। এই সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা না গেলে আরও ৬০ দিন সময় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকা পালনের উদ্দেশ্যে চাঁদাবাজি, যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, যানবাহনের ক্ষতিসাধন, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিনষ্ট করা, ছিনতাই, দস্যুতা, ত্রাস ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি, দরপত্র ক্রয়, বিক্রয়, গ্রহণ বা দাখিলে জোরপূর্বক বাধা প্রদান বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ইত্যাদি গুরুতর অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অধিকতর উন্নতির লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বিঘকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন-২০০২ জারি করা হয়েছিল। আইনটি করার সময় প্রথমে মেয়াদ দুই বছর করা হয়েছিল। পরে প্রয়োজনীয়তার নিরিখে ছয়বারে এর মেয়াদ ১৫ বছর বাড়ানো হয়। এ আইনটির অধীনে তদন্তাধীন ও বিচারাধীন ১ হাজার ৭০৩টি মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আইনটির মেয়াদ বাড়ানো প্রয়োজন। চারদলীয় জোট সরকারের সময় ২০০২ সালে দ্রুত বিচার আইন পাস হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে আইনটির মেয়াদ দুই বছর করে বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ২০১৪ সালে পাঁচ বছর আইনটি বহাল রাখতে সংশোধনী বিল পাস করা হয়। গত ৯ এপ্রিল আইনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর সরকার আইনটির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত