বাংলাদেশের আদালত কার্যত সরকারের অধীনে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কেতাবি কথা ছাড়া কিছু নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ১১৫ ও ১১৬ অনুচ্ছেদের কারণে নিম্ন আদালত কার্যত এখনো সরকারের অধীনে রয়ে গেছে। বাংলাদেশে সেপারেশন অব পাওয়ার কেতাবি কথা ছাড়া আর কিছু নয়।’
গতকাল সোমবার সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কিত বাতিল নোটিসের ওপর বক্তব্যের সময় তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রের তিন অঙ্গ যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তবে তা রাষ্ট্রের জন্য সমূহ বিপদ ডেকে আনতে পারে।’
সাবেক প্রধান বিচারপিত এস কে সিনহাকে উদ্ধৃত করে রুমিন ফারহানা বলে ‘তিনি বলেছেন, দেশে আইনের শাসন নেই। সরকার নিম্ন আদালতকে কব্জা করার পর হাত বাড়িয়েছে উচ্চ আদালতের দিকে। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের কারণে তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। সেই রায়ে তিনি বলেছিলেন, ডুবন্ত বিচার বিভাগ কোনো রকমে নাক উঁচু করে টিকে আছে। এস কে সিনহা আরও বলেছিলেন, আমিত্বের দম্ভের কথা। নিম্ন আদালতের যে বিচারক তারেক রহমানকে খালাস দিয়েছিলেন, তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দেওয়া মামলার মেরিট, তার বয়স, সামাজিক অবস্থান, শারীরিক অবস্থা ও জেন্ডারÑ যেকোনো বিবেচনায় বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী জামিন তার অধিকার। কিন্তু তিনি যেন সহজে মুক্তি না পান, তাই একের পর এক মামলা নতুনভাবে তার সামনে আনা হচ্ছে। এক-এগারোর সময় দুই বৃহৎ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নামে মামলা হয়েছে। এরপর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি কমিটি করে তাদের নেতাকর্মীদের মামলা তুলে নেয়। সেইসব মামলার সঙ্গে নতুন করে বিএনপির ২৬ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এক লাখ মামলা হয়েছে। নির্বাচনের আগে আগে নতুন করে শুরু হয়েছে গায়েবি মামলা। যে মামলায় মৃত ব্যক্তি, বিদেশে থাকা ব্যক্তি, পঙ্গু ব্যক্তিরাও আসামি আছেন।’
