মহিলা পরিষদের তথ্য

৬ মাসে ধর্ষণের শিকার ৭৩১ নারী ও শিশু

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৯, ০২:১৪ এএম

চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে ৭৩১ নারী ও মেয়েশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। গতকাল সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচার সুফিয়া কামাল ভবন মিলনায়তনে সংস্থাটি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, নারী ও শিশুদের উত্ত্যক্তকরণ, যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা বেড়েই চলেছে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৩ জন সহিংসতার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১১৩ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৬ জনকে। এ ছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ১২৩ জনকে। ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে সংস্থাটি এ তথ্য দেয়।

সম্মেলনে জানানো হয়, বিভিন্ন কারণে ওই সময়ে ২৭৬ জন নারী ও মেয়েশিশুকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে ১০ জনকে। শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন ৫৪ নারী ও শিশু। যৌন নির্যাতন করা হয়েছে ৭০ জনকে আর মারধরের শিকার হয়েছে ১৪৭ জন।

যৌতুকের কারণেও অসংখ্য নারী নির্যাতনের শিকার হন বলে সম্মেলনে জানানো হয়। তথ্য বলছে, যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৯৪ জন। এর মধ্যে হত্যা করা হয়েছে ৪৭ জনকে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এসব নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনায় মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশ মামলায় সাজা হয়েছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে।

সম্মেলনে সংস্থাটির পক্ষ থেকে ৩২টি সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে নারী ও মেয়েশিশুর প্রতি যৌন নিপীড়নসহ সব ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতন বন্ধ করা, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়েশিশুদের সমঅধিকার নিশ্চিত করা, উত্ত্যক্তকরণ, যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, হত্যা ও নিপীড়ন রোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা উল্লেখযোগ্য। পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম, সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, লিগ্যাল এইডের পরিচালক মাকসুদা আক্তারসহ কেন্দ্রীয় কমিটির অনেকে এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত