দীর্ঘ সফর শেষে বিশ্বকাপ থেকে ফিরেছেন মাত্র। বিশ্রাম জরুরি না? ফর্ম হারিয়ে অবনত হয়ে থাকা তামিম ইকবালের জন্য এখন ব্যাটিংয়ে নিজেকে ফিরিয়ে আনার চেয়ে দুনিয়ায় আর বড় কিছু নেই। মিরপুর স্টেডিয়ামের ব্যাটিং নেটে তাই মঙ্গলবার হাজির। জেদ।
এদিকে ইংলিশ কোচ স্টিভ রোডসের আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তি ছিল। পরশু হঠাৎ করে খবর, দুপক্ষের সমঝোতায় রোডসের প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে বিদায় হেয়ে গেছে। তাহলে শ্রীলঙ্কায় এ মাসের শেষে তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ কে থাকবেন? কোর্টনি ওয়ালশসহ আর দুজনের চুক্তি শেষ। ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন দেশে সফল কোচ। আগের জাতীয় দলের অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্বে ছিলেন। এবারও সম্ভবত তিনি।
গতকাল মিরপুরে রোডসের বিদায় ও সামনের সফরে অন্তর্বর্তীকালীন কোচের আলাপটাই হট কেক। মুখে মুখে। এছাড়া বোলিং কোচ, ব্যাটিং কোচ, ফিজিও, স্পিন কোচের সঙ্গে চুক্তি শেষ। তারাও থাকছেন না। শ্রীলঙ্কা সফরে কোচিং স্টাফসহ কেমন দল হবে?
২১ কিংবা ২২ জুলাই বিসিবির বোর্ড মিটিং। ‘কোচিং স্টাফ যারা আছেন, এর বাইরে কাউকে সংযোজন করতে হলে সেটা আমরা আলোচনা করছি’Ñ বিসিবির প্রধান নির্বাহী মিরপুর হোম অব ক্রিকেটে উদ্ভূত সমস্যা নিয়ে বললেন।
কিন্তু প্রধান কোচ রোডসের ব্যাপারে? কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত। ব্যাখ্যা দিতে নারাজ সুজন, ‘এটা পুরোপুরি অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। আমাদের সঙ্গে কোচের চুক্তি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি এই মুহূর্তে ডিসক্লোজ করা ঠিক না।’ তবে কি দীর্ঘমেয়াদি কোচ দরকার নেই? ‘আমাদের চেষ্টা থাকবে দীর্ঘমেয়াদি কোচ নেওয়ার জন্য। নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।’ সব না মিললে
অন্তর্বর্তী কোচ দিয়ে চলবে বলে জানালেন।
এক সিরিজে কোচের দায়িত্ব নিতে সুজনেরও আপত্তি আছে, ‘আমারও চিন্তার বিষয়। বারবার এক সিরিজের জন্য অন্তর্বর্তী কোচ হয়ে দায়িত্ব নিতে চাই না। সেটা আমার জন্য ঠিক হবে না।’
তার মত, হাথুরুসিংহেকে আবার আনলে ভালো হয়। তবে দেখা দরকার এর চেয়ে ভালো অপশন আছে কি না। বোর্ডের কোর্টে বল ঠেলে দিয়ে সাবেক অধিনায়কের উচ্চারণ, ‘ভালো কোচ আনার চেষ্টা করছে বিসিবি। আমি বিশ্বাস করি বিশ্বকাপ শেষে অনেক কোচের চুক্তি শেষ হবে। আমরা যদি স্বল্প সময়ের মধ্যে এটা করতে পারি তাহলে ভালো কোচ আসতে পারে।’
তাহলে কি পূর্ণকালীন প্রধান কোচ হওয়ার স্বপনটা লালন করছেন সুজন? ‘আমি সবসময় অ্যাভেইএবল থাকি। কোচিং আমার একটি পেশা। বোর্ড একবার অন্তর্বর্তী হিসেবে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিল। আমি অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য কাজ করব কি না এটাও একটা কথা। বোর্ড আমাকে ইনটার্মে চিন্তা করবে কি না এটাও একটা কথা।’
তাহলে? ইতিহাস বলে, এত অল্প সময়ে প্রধান কোচ পাওয়া সম্ভব না। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজির এই রমরমা যুগে। সুজন যদি আদৌ বিসিবির কোর্টে বলটা ফেলে থাকেন তাহলে তা প্রবল ফোরহ্যান্ড শটে খেললেন। ব্যাপারটা এমন, আর কতকাল প্রধান কোচ না হয়ে এই ভারপ্রাপ্ত হয়ে জোয়াল টেনে চলা!
