হবিগঞ্জ নবীগঞ্জের হরিপুরে স্কুলছাত্রী ফাতেহা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় দুলাভাইসহ চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদ-ের রায় দিয়েছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ হালিম উদ্দিন চৌধুরী এই রায় দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আলাল মিয়া ও আবদুল খালেক নামে দুজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন, দুলাভাই সাইফুল ইসলাম (৩২), হরিপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মন্নাফ (৫২), বাবুল মিয়া (৩৫) ও আনমনু গ্রামের রাজু আহমেদ (৪৫)।
এদিকে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে এক গৃহবধূ ধর্ষণ ও অপহরণ মামলায় দুজনকে ১৪ বছরের কারাদ- দিয়েছে আদালত। গতকাল দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জিয়া হায়দার এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে এক মাসের কারাদ- প্রদান করে আদালত। কারাদ-প্রাপ্তরা হলো, হাবিল হোসেন (৩৫) ও লিপন আলি (৩২)। রায় ঘোষণার সময় লিপন আলি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্য আসামি হাবিল হোসেন পালাতক রয়েছেন।
হবিগঞ্জের ঘটনায় আদালত সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ পৌরসভার হরিপুর এলাকার রৌশন আরার সঙ্গে বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন সাইফুল ইসলাম। ২০০২ সালের ২০ আগস্ট রাত ৯টার দিকে রৌশনের বোন দশম শ্রেণির ছাত্রী ফাতেহা আক্তারকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় দুলাভাই সাইফুল। এরপর সহযোগীদের নিয়ে নদীর পাশে দল বেঁধে ধর্ষণ ও হত্যা করে। পরদিন বিকেলে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছর ২৬ আগস্ট রৌশন আরা বাদী হয়ে সাইফুলসহ ছয়জনকে আসামি করে নবীগঞ্জ থানায় হত্যামামলা করেন।
নবীগঞ্জ থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন জানান, ২০০৩ সালের ১৯ জুন ছয় আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেয়।
চুয়াডাঙ্গার ঘটনায় মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে ৯ নভেম্বর বিকেলে বিপাশা খাতুন শ্বশুরবাড়ি যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার বড়খাপুর গ্রাম থেকে পিতার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর আন্দুলবাড়িয়া গ্রামে আসছিলেন। বিপাশা খাতুন গাড়ি থেকে নেমে জীবননগর আন্দুলবাড়িয়া বাজারে দাঁড়ান। এরপর হেঁটে বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় গ্রামের মাঠে একা পেয়ে হাবিল হোসেন, লিপন আলিসহ ৫-৭ জন মিলে বিপাশা খাতুনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও মোটর সাইকেলযোগে অপহরণ করে নিয়ে যায়। গৃহবধূর পরিবার বিষয়টি জীবননগর থানা পুলিশকে জানায়। পুলিশ তিন দিন পর উপজেলার ভোমরাডাঙ্গা গ্রাম থেকে গৃহবধূকে উদ্ধার করে। অভিযুক্তরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।
ওই বছর ১২ নভেম্বর মেয়ের বাবা হারেজ ম-ল বাদী হয়ে দুজনের নাম উল্লেখসহ কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে জীবননগর থানায় একটি অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা করেন। জীবননগর থানার এসআই শেখ আজগর আলি মামলার তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারি দুজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
