জলবায়ু অভিযোজনে সেরা শিক্ষক বাংলাদেশ : মুন

আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৯, ০১:২৩ এএম

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের পদক্ষেপকে ‘অলৌকিক’ হিসেবে বর্ণনা করে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, জলবায়ু অভিযোজনে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক এ দেশ। তিনি বলেন, আমরা ঢাকায় এসেছি বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতা থেকে শিখতে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন’ বিষয়ে ঢাকা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য বাংলাদেশে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশনের চেয়ারম্যান ও জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন। এদিকে গতকাল সকালে ইন্টারকন্টিনেন্টালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি এই প্রস্তাব দেন বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইনসানুল করিম জানিয়েছেন। এই

সাক্ষাৎপর্বে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট হিলদা সি হেইনও ছিলেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন ও এর প্রভাব মোকাবিলায় ধারণার উন্নয়নে গঠিত এ কমিশনের চেয়ারম্যান বান কি মুন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিপূর্ণ বাংলাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে আন্তঃরাষ্ট্রীয় প্যানেল (আইপিসিসি) বলছে, সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা আর যদি ১ মিটারও বাড়ে তাহলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ১৭ শতাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাবে।
সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় ফণিতে ১২ জনের প্রাণহানির সঙ্গে পাঁচ লাখ মানুষের প্রাণ নেওয়া ১৯৭০ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের তুলনা করেন বান কি মুন। তিনি বলেন, যথার্থ আবহাওয়া পূর্বাভাস, কমিউনিটিভিত্তিক পূর্ব সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও সাইক্লোন শেল্টার থাকার ফলে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আগেই ১৬ লাখ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
মুন বলেন, অভিযোজন অনুশীলনে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার যে নেতৃত্ব অর্জন করেছে তা অলৌকিকের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন করে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যে প্রজ্ঞা ও কার্যকারিতার উদাহরণ দেখিয়েছে, তা আমাদের সবাইকে অনুপ্রেরণা জোগায়।
তিনি বলেন, অভিযোজনের প্রসঙ্গ যখন আসে তখন জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের অগ্রভাগে থাকা আমাদের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকরা তাদের দুয়ার খুলে দিয়েছেন। বান কি মুন বলেন, বাংলাদেশের তুলনায় বিশ্বের বাকি দেশের অনেক কিছু শেখার আছে। এভাবেই অভিযোজনের বিষয়ে শেখার জন্য বাংলাদেশ সর্বশ্রেষ্ঠ।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালে জাতীয় অভিযোজনের কর্মপরিকল্পনা সৃষ্টি করে এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ হয়েছিল।
এই উদ্বোধনী সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার অত্যন্ত ভালো আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মুন বলেন, আমরা ঢাকায় একটা অভিযোজন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই। ১০ দিন আগে আমরা চীনের পেইচিংয়ে একটি অভিযোজন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছি।
এই সম্মেলনের জন্য ঢাকাকে বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, অনেক দেশ আছে যেগুলো বাংলাদেশের তুলনায় নাজুক। কিন্তু তাদের নিজেদের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা নেই। নেদারল্যান্ডসের সাহায্যে ডেল্টা প্ল্যান ২১০০-এর আওতায় দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি।
বান কি মুন বলেন, এসব অভিযোজন অনুশীলন বিনিময় করতে হবে। যাতে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সহায়তায় আমরা জরুরি ভিত্তিতে ব্যয়সাশ্রয়ী উপায়ে পদক্ষেপ নিতে পারি। ভাবনার চেয়ে অনেক অনেক দ্রুতগতিতে জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। এক্ষেত্রে আমাদের সময় নষ্ট করার সময় নেই।
এ বিষয়ে তার কমিশন শিগগিরই প্রতিবেদন প্রকাশ করবে জানিয়ে তিনি বলেন, এটা হবে অনন্য প্রতিবেদন। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি। এটা হবে কর্মমুখী। কীভাবে আমরা আসন্ন জলবায়ু মোকাবিলা করব, অভিযোজনের মাধ্যমে কীভাবে আমরা ব্যয়সাশ্রয়ী হতে পারি সে বিষয়ে এখানে তুলে ধরা হবে।
এদিকে গতকাল বিকেলে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন। তিনি কুতুপালং ২০ নং ক্যাম্প ও ১৭ নং ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন।
সে সময় তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রোগ ব্রেন্ডে ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ স্কেফার, ত্রাণ সচিব শাহ কামাল, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত