জাহালমকাণ্ড

প্রতিবেদন হাইকোর্টে শুনানি মঙ্গলবার

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৯, ০২:৫০ এএম

নিরপরাধ জাহালমের কারাবাসের ঘটনায় হাইকোর্টে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের পক্ষে প্রতিবেদনটি বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান এবং বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের বেঞ্চে উপস্থাপন করেন সংস্থাটির আইনজীবী খুরশিদ আলম খান।

আগামী মঙ্গলবার এ প্রতিবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এদিন আদালতে জাহালমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

সোনালী ব্যাংকের ১৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ঋণ জালিয়াতির ঘটনার মূল হোতা ৩৩ মামলার আসামি আবু সালেকের পরিবর্তে ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের নাগরপুরের ধুবুড়িয়া গ্রামের নিরপরাধ জাহালমকে গ্রেপ্তার করে দুদক। পরে ২৬টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। বিষয়টি গত ৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের নজরে আনেন আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট জাহালমকে তাৎক্ষণিক কারামুক্তির নির্দেশ দিলে ওইদিন রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান জাহালম।

পাশাপাশি জাহালমের ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে রুল জারি করে হাইকোর্ট। এ ছাড়া জাহালমের কারাবাসে কে বা কারা দায়ী তা খতিয়ে দেখতে গত ১৭ এপ্রিল এক আদেশে দুদকের প্রতিবেদন চেয়েছিল হাইকোর্টের এই বেঞ্চ। এরই ধারাবাহিকতায় দুদকের তদন্ত কমিটির প্রধান প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (লিগ্যাল) আবুল হাসনাত মো. আব্দুল ওয়াদুদের তৈরি এ প্রতিবেদনটি আদালতে দাখিল করা হয়।

প্রতিবেদনে ঘটনার প্রেক্ষাপট, আসামি আবু সালেকের পরিবর্তে জাহালমকে আসামি করা, দুদকের এই মামলাগুলোর অনুসন্ধান ও তদন্ত পর্যায়ে ত্রুটি, বিচ্যুতি ও সংশ্লিষ্টদের দায়দায়িত্ব নিরূপণসহ ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বেশকিছু সুপারিশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহালমের ইংরেজি লিখতে না জানা, লেখাপড়া না জানা, তার সামাজিক অবস্থান ও আর্থিক সঙ্গতি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এগুলো ঠিকমতো বিবেচনা করলে তখনই উদ্ঘাটিত হতো যে, জাহালম প্রকৃত আসামি নন। এ ছাড়া এ ঘটনায় আত্মসাৎ হয়েছে ১৮ কোটি টাকার বেশি। কিন্তু এই টাকা কোথায় গেল তদন্তকারী কর্মকর্তারা সে বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করেননি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই মামলায় অনেক ব্যাংক কর্মকর্তা জড়িত থাকলেও এবং তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে থাকলেও তাদের কাউকে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় অভিযুক্ত করা হয়নি। কিন্তু তাদের এই ধারায় চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত ছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত