শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে ঢাকায়। বৃষ্টিতে রাজধানীর বেশির ভাগ সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। ছুটির দিনেও রাস্তায় দেখা দেয় তীব্র যানজট, এর সঙ্গে যুক্ত হয় যানবাহন সংকট।
জুমার নামাজের সময় মুষলধারে বৃষ্টির কারণে বৃষ্টিতে ভিজে জুমার নামাজ আদায় করেন অসংখ্য মুসল্লি।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর পল্লবী থেকে প্রেসক্লাবের উদ্দেশ্যে রওনা হন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শাহাবুদ্দীন।

তিনি জানান, পল্লবী, মিরপুর ১০ নম্বর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, সংসদ ভবন, কারওয়ান বাজার এলাকার রাস্তা হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। খুঁড়ে রাখা রাস্তায় পানি জমে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। পল্লবী থেকে প্রেসক্লাবে বাস যোগে পৌঁছাতে তার সময় লাগে আড়াই ঘণ্টা।
নয়াপল্টনের বাসিন্দা নওশাদ মিলন জানান, বৃষ্টিতে নয়াপল্টনের ভিআইপি রোড, বক্সকালবার্ট রোড, বিজয় সরণি, পল্টন, বায়তুল মোকাররম, ও সেগুনবাগিচা এলাকা থইথই পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় সড়কে বেশ কিছু সিএনজি অটোরিকশা ও প্রাইভেট গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
মতিঝিল এলাকার আরামবাগ, নটর ডেম কলেজের সামনের সড়ক হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। এসব এলাকার বাসিন্দাদের বৃষ্টিতে ভিজে সড়ক পার হতে দেখা যায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শনিবার ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। রবি ও সোমবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কিছু কমবে।
তিনি আরো জানান, বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়োবাতাস বয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে সাবধানে চলাচলের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
তীব্র বৃষ্টিতে রাজধানীর পশ্চিম ধানমন্ডি এলাকায় ব্যাপক জলজটের সৃষ্টি হয়। রায়েরবাজার, জিগাতলা, ১৫ নম্বর স্টাফ কোয়ার্টারসহ অধিকাংশ এলাকার অলিগলি হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়।
সরেজমিন দেখা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পানি নামেনি। রাস্তার ওপর জমে থাকা পানির ঢেউ ভোগান্তি বাড়িয়েছে পথচারী এবং অস্থায়ী দোকানিদের।
রামপুরার বাসিন্দা খায়রুল জানান, রামপুরার টিভি সেন্টারের বিপরীত পাশের বিভিন্ন সড়ক ও গলিতে পানি জমে যাওয়ায় যান চলাচলে বেগ পেতে হয়। এ ছাড়া কারওয়ান বাজারে বেশ কিছু জায়গায় হাঁটু থেকে কোমর পানি জমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েন। ফার্মগেট থেকে কারওয়ান বাজার এলাকায় প্রধান সড়কে পানি জমে থাকতে দেখা যায়।
দুপুরের বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় যাত্রাবাড়ী সবজির আড়ত। বৃষ্টির সঙ্গে তীব্র পানির স্রোতে মিষ্টি কুমড়া, কচু, কাঁঠালসহ সব সবজি ভেসে যায়। ব্যাপারীরা ভিজে ভিজে সেগুলো তুলে আনতে দেখা যায়।
সবজির আড়তের ব্যবসায়ী আয়নাল হোসেন জানান, তারা রাস্তার পাশে মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি ও কাঁঠাল স্তূপ দিয়ে রাখেন। হঠাৎ শুরু হওয়া বৃষ্টির সঙ্গে ফ্লাইওভার থেকে পানির স্রোত নেমে আসে। সেই স্রোতে ভেসে যায় সবজি ও ফল।
