টসের সিদ্ধান্তেই ডুবেছে অস্ট্রেলিয়া

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৯, ১১:৪৮ পিএম

এজবাস্টনে টস জিতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্তই তাদের জন্য কাল হয়েছে। এই বিশ্বকাপে সাধারণত আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত আদর্শ। কিন্তু এজবাস্টনের যেই উইকেটে খেলা হয়েছে সেই উইকেটে নতুন বলে অনেক কিছুই করার ছিল। সাত ওভারের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া তিন উইকেট খুইয়েছে। মূলত ক্রিস ওকস ও জোফরা আর্চারের সুইংয়ের কাছেই ধরাশায়ী হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার। ব্যর্থতার মিছিলে দুই ফর্মে থাকা ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চ থাকায় ধরেই নিয়েছিলাম অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ হবে আড়াইশোর আগে। একা স্টিভ স্মিথ চেষ্টা করে গেছে অ্যালেক্স ক্যারিকে নিয়ে। কিন্তু এই দুজনের চেষ্টা দলকে বড় সংগ্রহ পাইয়ে দিতে যথেষ্ট ছিল না। ওকস অসাধারণ বোলিং করেছে। আর্চারকেও তেমন খেলতে পারেনি অজি ব্যাটসম্যানরা। তবে যাকে দলে নেওয়া নিয়ে অনেকের প্রশ্ন ছিল, দুর্দান্ত লেগ স্পিন করে আদিল রশিদ ভালো অবদান রেখেছে ৩ উইকেট নিয়ে। ২২৩ রানের পুঁজি নিয়েও অবশ্য সবার আশা ছিল অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা জোর লড়াই করবে। ফর্মে

থাকা বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্কের কাছে ছিল অনেক প্রত্যাশা। কিন্তু ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার যেভাবে ব্যাটিং করেছে, এরপর অস্ট্রেলিয়ার হারা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। বিশেষ করে জেসন রয় আগ্রাসী ব্যাটিং করে শুরুতেই ম্যাচের লাগাম নিজেদের দিকে নিয়ে আসে। আগের দুই ম্যাচে টানা সেঞ্চুরি করা জনি বেয়ারস্টোও যোগ্য সঙ্গ দিয়ে গেছে। উদ্বোধনী জুটিতে দুজনে তুলেছে ১২৪ রান। আম্পায়ারের বাজে সিদ্ধান্তে রয় দুর্ভাগ্যজনক আউট না হলে ম্যাচটা আরও আগে শেষ করতে পারত ইংল্যান্ড। তারপরও জো রুট ও মরগান সাবলীল ব্যাট করে ১০৭ বল বাকি থাকতে ৮ উইকেটে জয় নিশ্চিত করেছে।

ইংল্যান্ড ব্যাটে-বলে যেভাবে পারফরম করেছে শেষ তিনটি ম্যাচ, তাতে আমি তাদের হাতেই বিশ্বকাপটা দেখছি। অস্ট্রেলিয়াকে কাল (বৃহস্পতিবার) একটি বারের জন্যও মনে হয়নি ম্যাচটি জিতবে। ওদের ব্যাটিং অর্ডার যে ওয়ার্নার ও ফিঞ্চনির্ভর সেটা প্রমাণিত হলো। দলটি নিয়মিত অলরাউন্ডার মার্কাস স্টয়নিসকে খেলিয়ে গেল কেন সেটা বুঝলাম না। ওকে কিন্তু কোনো ক্ষেত্রেই খুব বেশি অবদান রাখতে দেখিনি। বরং কাল্টার-নাইল হতে পারত এই পজিশনে সেরা পছন্দ। আমি আগেই বলেছি, অস্ট্রেলিয়া শিবিরে ইনজুরির হানাটা বড় ভোগাবে তাদের। সত্যিই তাই হয়েছে। উসমান খাজার শূন্যতা ওর জায়গায় খেলতে নামা পিটার হ্যান্ডসকম্ব পূরণ করতে পারেনি।

অস্ট্রেলিয়া সেমিতে উঠলে ফাইনাল খেলে। এবারই প্রথমবারের মতো সেমি থেকে বিদায় নিল। এর ফলে ১৪ জুলাই বিশ্ব নতুন চ্যাম্পিয়ন পেতে যাচ্ছে। এটা খুব ভালো একটা ব্যাপার হতে চলছে। কারণ ঘুরেফিরে সেই অস্ট্রেলিয়াই কাপ জিতলে কিন্তু খেলাটার সামগ্রিক জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়। নতুন কেউ শিরোপা জিতলে খেলাটার বিস্তারে সুবিধা হয়। অস্ট্রেলিয়া এবার পারেনি। তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের কারণেই ওয়ার্নার, ফিঞ্চ এবং মিচেল স্টার্ককে মানুষ বহুদিন মনে রাখবে। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলে ফিরেই ওয়ার্নার দলের ব্যাটিং স্তম্ভে পরিণত হয়েছে। আর পরপর দুই আসরে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি স্টার্ক প্রমাণ করেছে সে লম্বা রেসের ঘোড়া। সত্যি বললে এ তিনজনকে বাদ দিলে অস্ট্রেলিয়া মাঝারিমানের একটা দলে রূপ নিত। অস্ট্রেলিয়া শুধু নয়, গোটা বিশ্বকাপেই স্টার্কের সমতুল্য এখন কেউ নেই। ও সত্যি অসাধারণ একটা বোলার। এই তিনজনের পাশাপাশি আমি রোহিত শর্মার কথাও বলব। তার দল সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও রোহিত ব্যাট হাতে যে কীর্তি গড়েছে, তাতে সে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই তারকাদের দলগুলো বিশ্বকাপ জেতার সুযোগ পেল না ভেবে একটু আক্ষেপ হয়। তবে ইংল্যান্ড তাদের বাজে সময়টা পার করে এসে যেভাবে খেলে ফাইনালে উঠে গেল তাতে তাদেরই শিরোপাটা জেতা উচিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত