উপজেলায় বিদ্রোহীদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৯, ০১:৪৬ এএম

সদ্য সমাপ্ত উপজেলা নির্বাচনে দলীয় পদে থেকে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে যারা নির্বাচন করেছেন তাদের সবাইকে ‘সাসপেন্ড’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ। এ সভায় দলটির উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তিন নেতা দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ইস্যুটি উত্থাপন করলে বৈঠকজুড়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এর আগেও উপজেলা নির্বাচনে দলের নেতা যারা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু তা কার্যকর করা হয়নি। 

সম্পাদকম-লীর দুই নেতা শেখ হাসিনার উদ্ধৃতি দিয়ে দেশ রূপান্তরকে আরও

বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের যারা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ইন্ধন ও মদদ দিয়েছেন তাদেরকে সাসপেন্ড করা হবে। তবে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে তাদের শোকজ করার নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এই সিদ্ধান্তে তার অনড় অবস্থানের কথা তুলে ধরে নেতারা আরও বলেন, নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া দলীয় নেতাদের কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না। দলীয় শৃঙ্খলা না থাকলে সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগকে পেছনে হাঁটতে হবে বলে শেখ হাসিনা বৈঠকে উল্লেখ করেন।

অভিযোগ আছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, জেলা-উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সবাইকেই সাসপেন্ডের আওতায় আসতে হবে। মন্ত্রী-এমপি বলে তাদেরকে ক্ষমা করা যায় কীনা বৈঠকে এই প্রশ্ন উঠে এলে শেখ হাসিনা বলেন, শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ থাকলে সে যত বড় নেতাই হোক শাস্তির আওতায় আসতেই হবে। এখানে কে মন্ত্রী, কে বড় নেতা, কে প্রভাবশালী, কে সংসদ সদস্য সেটা দেখার কোনো সুযোগ নেই বলে জানান দলীয় সভাপতি। বৈঠকে উপস্থিত এক কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রী দেশ রূপান্তরকে বলেন, শোকজের উত্তর পাওয়ার পর স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে বলে জানান শেখ হাসিনা। বৈঠকে ১৫ আগস্টের কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া সংগঠনকে শক্তিশালী করতে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করতে নির্দেশ দেন দলীয় সভাপতি। শেখ হাসিনা বলেন, সংগঠন থাকলে সব থাকবে। সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়লে পিছিয়ে যেতে হবে সবকিছু থেকে। উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ বৈঠকে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যাপারে পরামর্শ দেন।

নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নৌকা প্রতীকে যে কয়জন আওয়ামী লীগ প্রার্থী জিতেছেন, তার প্রায় অর্ধেক জিতেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করে ভিন্ন প্রতীকে।

নির্বাচনে ৪৭৩ উপজেলার মধ্যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নৌকা প্রতীকে ৩২০টিতে চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে ১১৫ জন নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। চেয়ারম্যান পদে জয়ীদের মধ্যে ১৩৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। তবে এর মধ্যে ১৩ জন বাদে সবাই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত