দ্রুত দারিদ্র্য কমে আসা দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ সামনের সারিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি ইউএনডিপি। গত বৃহস্পতিবার সংস্থাটির প্রকাশিত বৈশ্বিক বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচকে (এমপিআই) এ কথা জানানো হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-১ বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হয় এমপিআই।
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য এসডিজিতে যে ১৭টি লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে, তার প্রথমটি হলো দারিদ্র্য বিমোচন। ২০৩০ সালের মধ্যে সব জায়গা থেকে ‘বহুমাত্রিক’ দারিদ্র্য দূর করার কথা বলা হয়েছে সেখানে।
আর সেই লক্ষ্য অর্জনে জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলো কতটা এগোতে পারল, তা বোঝার একটি কৌশল এই ‘মাল্টিডাইমেনশনাল পভার্টি ইনডেক্স’ বা এমপিআই।
এমপিআই প্রতিবেদনে বিশ্বের ১০১টি দেশের মারাত্মক বহুমাত্রিক দারিদ্র্য বিবেচনা করা হয়। এসব দেশের মধ্যে ৩১টি নিম্ন আয়ের, ৬৮টি মধ্য আয়ের আর দুটি উচ্চ আয়ের।
দেশগুলোর প্রায় ১৩০ কোটি মানুষ বহুমাত্রিকভাবে দরিদ্র। এমপিআই প্রতিবেদন দারিদ্র্যের তুলনা করে ১০টি সূচকের মাধ্যমে পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এসব সূচকের মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কাজ ও জীবনযাপনের মান।
এ বছরের এমপিআই সূচকে দেখা যায়, ১০টি দেশের ২০০ কোটি মানুষ এসডিজি-১ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে পরিসংখ্যানগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। এদের মধ্যে ৮টি দেশের এমপিআই মান কমেছে। তবে সামগ্রিকভাবে এসব দেশের বহুমাত্রিকভাবে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া ও ভারতে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে দারিদ্র্য কমছে। এসব দেশের অন্তত ৯টি সূচকে উন্নতি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে শিশুদের দারিদ্র্য আরও দ্রুতগতিতে কমেছে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, হাইতি, ভারত ও পেরুতে।
‘মাল্টিডাইমেনশনাল পভার্টি ইনডেক্স ২০১৯’ বলছে, বাংলাদেশে এখনো ২ কোটি ৬৭ লাখ মানুষ ‘বহুমাত্রিক’ দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে, যা মোট জনসংখ্যার ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ। এক বছর আগে এই হার ছিল ১৮ শতাংশের মতো।
যে ১০টি মানদণ্ডে এই সূচক তৈরি হয়েছে তার ৯টিতেই বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নতি হয়েছে। বহুমাত্রিক দারিদ্র্য কমার গতি গ্রাম ও শহরÑ দুই ক্ষেত্রেই প্রায় সমান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুমাত্রিক দারিদ্র্য কমিয়ে আনতে পারলেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে অসমতা এখনো ব্যাপক।
বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পয়েন্ট সমান, শূন্য দশমিক ১৯৮। কিন্তু পাকিস্তানে অসমতা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি বলে জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।
