বঙ্গোপসাগরে পাঁচ দিন ভেসে থাকার পর উদ্ধার হওয়া ভারতীয় জেলে রবীন্দ্রনাথ দাশকে চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। কোস্টগার্ড কার্যালয়ে মেডিকেল চেকআপ শেষে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় তাকে পতেঙ্গা থানায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রবীন্দ্রনাথ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কাকদ্বীপ নারায়ণপুরের বাসিন্দা। গত ৫ জুলাই সীমান্তবর্তী এলাকা কেদুয়া থেকে নৌকা নিয়ে তিনিসহ আরও ১৫ জন মাছ ধরতে সাগরে যান। পরদিন মাছধরা ট্রলারটি উল্টে গেলে রবীন্দ্রসহ অন্যরা সাগরে ভাসতে থাকেন। এরপর গত ১০ জুলাই দুপুর পৌনে ১টার দিকে কেএসআরএমের মালিকানাধীন এস আর শিপিংয়ের এমভি জাওয়াদ নামের
মাছধরা জাহাজের নাবিকরা তাকে উদ্ধার করেন। গতকাল বিকেলে পতেঙ্গার বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি জেটিতে উদ্ধার করা জেলেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি করা হয়।
সাগরে ভেসে থাকা রবীন্দ্রনাথ সাংবাদিকদের বলেন, ‘উত্তাল সাগরে ট্রলার ডুবে যাওয়ার পর বাঁশ ধরে ভাসছিলাম। ১৫ জন মানুষ। আমি ছাড়া সবার লাইফ জ্যাকেট ছিল। একে একে তলিয়ে যাচ্ছিলেন সহকর্মীরা। সবশেষে ছিলাম ভাইপো আর আমি। উদ্ধারের তিন ঘণ্টা আগে ভাইপো তলিয়ে গেল।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘যখন বৃষ্টি হতো হা করে পান করতাম। কিন্তু মাছ আমার বাহুতে, ঘাড়ে কামড়াচ্ছিল। দিনরাত কখনো ঘুমাইনি। বাবা, মা, ছেলে আর মেয়ের মুখটি ভেসে উঠছিল।’
জীবন ফিরে পাওয়ার জন্য বারবার কৃতজ্ঞতা জানান এমভি জাওয়াদ, কেএসআরএম, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নৌবাণিজ্য দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তা ড. সাজিদ হোসেন, কেএসআরএমের সিইও প্রকৌশলী মেহেরুল করিম, মিডিয়া অ্যাডভাইজার মিজানুল ইসলাম, এমভি জাওয়াদের ক্যাপ্টেন এস এম নাসির উদ্দিন, মাস্টার পুলক কুমার ভাস্কর, মেরিন সুপার ওসমান গনি, ডাক্তার মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, কেএসআরএম গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এস আর শিপিং লিমিটেডের জাহাজটি গত বুধবার বেলা পৌনে ১টার দিকে কুতুবদিয়া থেকে ওই জেলেকে উদ্ধার করে।
