জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবিলায় নানা ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে নানা দেশ। আসছে নতুন নতুন ধারণা। নিত্যনতুন আবিষ্কারের সুবাদে বদলে যাচ্ছে আগামী দিনের জ্বালানি। ধীরে ধীরে জ্বালানি হয়ে উঠছে সবুজ। খাদ্যশস্য থেকে শুরু করে নানা ধরনের উদ্ভিদ থেকে তৈরি হচ্ছে এইসব সবুজ জ্বালানি বা বায়োফুয়েল। সাধারণত সূর্যমুখী, নারিকেল, সুগারবিট, আখ, পাম, সয়াবিন প্রভৃতি উদ্ভিদই বায়োফুয়েলের উৎস। তবে মেক্সিকোর একটি কোম্পানি এই ক্ষেত্রে নতুন একটি ধারণা নিয়ে এসেছে বিশ্বের সামনে। কোম্পানিটি
কাঁটাযুক্ত এক ধরনের ক্যাকটাস থেকে তৈরি করছে গাড়ি চালানোর জ্বালানি।
নোপাল নামের ওই ক্যাকটাসটি মেক্সিকোর জনপ্রিয় একটি খাবারও বটে। উদ্ভিদটি ব্যবহৃত হয় ওষুধ ও প্রসাধনী তৈরিতেও। বাংলাদেশের ফণীমনসার মতো দেখতে এই উদ্ভিদটির শীর্ষে ধরা লাল টুকুকে ফল বেশ জনপ্রিয় খাবার।
দেশটির নোপালিমেক্স নামের কোম্পানিটি নোপাল ক্যাকটাসকে পিষে তাতে কয়েক ধরনের সার মিশিয়ে পচিয়ে তা থেকে সংগ্রহ করছে মিথেন। তারপর সেটি প্রক্রিয়াজাত করে গাড়ি বা অন্যান্য ইঞ্জিন চালানোর কাজে ব্যবহার করছে। কোম্পানিটিই এই জ্বালানিকে মেক্সিকোর সবুজ সোনা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
দেশটির মধ্যাঞ্চলে ভুট্টা ও ক্যাকটাসের চিপস তৈরির একটি কারখানার বায়োডাইজেস্টার যন্ত্রে দিনে গড়ে আট টনের মতো এই মিথেন ব্যবহার করে। এছাড়া জিটাকাওরো নামের একটি শহরের স্থানীয় সরকারের অসংখ্য গাড়ি চলছে এই মিথেনে।
সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে কোম্পানিটি বিশ্বের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে ক্যাকটাস থেকে মিথেন উৎপাদনের একটি প্ল্যান্ট স্থাপন করে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি পাওয়ার লক্ষ্যে স্থাপিত প্ল্যান্টটি এখন মেক্সিকোর আর্থসামাজিক অবস্থায়ও প্রভাব রাখতে শুরু করেছে। মিথেন উৎপাদনের প্রক্রিয়ার উচ্ছিষ্ট পানি ও নাপোল ক্যাকটাস স্থানীয়রা অন্যান্য ফসলের সার হিসেবে ব্যবহার করছেন।
নোপালিমেক্স জানিয়েছে, তাদের উৎপাদিত এই বায়োগ্যাসের দাম পড়ে লিটারে মাত্রা ১২ পেসো বা ৫২ টাকা। বাজারে প্রচলিত গ্যাসোলিনের তুলনায় যা প্রায় ৬০ শতাংশ কম। তাদের দাবি, বিশেষ ধরনের সিলিন্ডারে এই গ্যাস ব্যবহার করলে গাড়ির গড় জ্বালানি খরচ কমপক্ষে ৪০ শতাংশ কম হবে।
কোম্পানিটির ভাষ্য, নোপাল ক্যাকটাস থেকে উৎপাদিত বায়োফুয়েল মেক্সিকোর পাশাপাশি বিশ্বের সবুজ জ্বালানির বিপ্লবে নতুন মাত্রা যোগ করবে। কদর বাড়বে মেক্সিকোর সবুজ সোনা খ্যাত এই ক্যাকটাসের।
