সংবাদ সম্মেলনে মিন্নি

খুনিদের আড়াল করতে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০১৯, ০২:১১ এএম

বরগুনায় রিফাত শরীফ হত্যা মামলার ১ নম্বর সাক্ষী ও তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বলেছেন, জেলায় ‘০০৭ গ্রুপ’ যারা সৃষ্টি করেছেন, তারা খুবই ক্ষমতাবান ও বিত্তশালী। তাই তারা বিচার থেকে দূরে থাকতে তার শ্বশুরকে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে রিফাত হত্যার বিচারকে অন্যদিকে প্রবাহিত করতে চাইছে। খুনিদের আড়াল করতেই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। গতকাল রবিবার দুপুরে বরগুনা পৌর শহরের নয়াকাটা মাইঠা এলাকায় বাবার বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মিন্নি। ওই সময় তিনি শ্বশুরের সংবাদ সম্মেলনকে ভিত্তিহীন দাবি করেন। এদিকে মিন্নিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে      

বরগুনা প্রেস ক্লাব চত্বরে। অন্যদিকে রিফাত হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি রেজোয়ান আলী খান ওরফে টিকটক হৃদয় ও জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার রাতুল শিকদার জয় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

শ্বশুরের অভিযোগগুলো বানোয়াট দাবি করে মিন্নি বলেন, ‘২৬ জুন আমার চোখের সামনে আমার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আমি সন্ত্রাসীদের বারবার প্রতিহত করার চেষ্টা করেও স্বামীকে বাঁচাতে পারিনি। বারবার সবার কাছে সহযোগিতা চাইলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। এরপর ২৭ জুন আমার শ্বশুর বরগুনা সদর থানায় ১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। হত্যা মামলায় আমাকে কোথাও অভিযুক্ত না করে ১ নম্বর সাক্ষী বানানো হয়। এখন হঠাৎ আমাকে জড়িয়ে মামলাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’ 

নতুন সিসিটিভি ফুটেজের কথা উল্লেখ করে এই নারী বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজে আমার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। কিন্তু আসল ঘটনা জানার কেউ চেষ্টাও করেননি। আমি সেদিন কলেজে গিয়েছিলাম। রিফাত গিয়ে আমাকে বলে, বাবা এসেছে, তোমাকে ডাকছে। আমি এসে দেখি রিফাতের বাবা, আমার শ্বশুর সেখানে নেই। তাই আমি পুনরায় কলেজের ভেতরে ঢুকে যেতে চাইছিলাম। এ সময় রিফাত আমাকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার আবদার করে। এর মধ্যেই রিশান ফরাজী, রিফাত ফরাজীসহ আরও কয়েকজন এসে ওকে জাপটে ধরে পূর্ব দিকে নিয়ে যায়। আমি ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে যাই। হাঁটতে হাঁটতে তাদের পেছনে যাই। যখন দেখি রিফাতকে মারধর শুরু করেছে, আমি প্রাণপণ চেষ্টা করেছি তাকে বাঁচাতে। কিন্তু সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে শেষ রক্ষা করতে পারিনি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে মিন্নি বলেন, ‘মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বরগুনার পুলিশ সুপার ও প্রশাসনকে আমি ধন্যবাদ জানাই আমার নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য।’ ওই সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘যেহেতু আমি একজন স্বামীহারা অসহায় নারী, আমার বিরুদ্ধে যারা মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র করছে, তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

রিফাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২ জুলাই ভোররাতে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত তিনজনসহ সাত আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

গত ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। ভিডিওতে দেখা যায়, তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। রিফাতকে কুপিয়ে বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ছাড়ে হামলাকারীরা। তারা চেহারা লুকানোরও কোনো চেষ্টা করেনি। গুরুতর আহত রিফাতকে এদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

মিন্নিকে গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন : গতকাল বেলা ১১টার দিকে প্রেস ক্লাব চত্বরে ‘বরগুনার সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে মানববন্ধন হয়। এতে বক্তব্য দেন বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক সুনাম দেবনাথ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান মারুফ মৃধা ও নিহত রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ। তারা রিফাত হত্যাকাণ্ডে মিন্নি জড়িত অভিযোগ করে দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানান।

দুজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি : রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি রেজোয়ান আলী খান ওরফে টিকটক হৃদয় ও জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার রাতুল শিকদার জয় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ নিয়ে এজাহারভুক্ত ৪ জনসহ ৯ আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। গতকাল সন্ধ্যার পর মামলার এজাহারভুক্ত আসামি টিকটক হৃদয় ও সিসি টিভির ফুটেজ দেখে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার রাতুল শিকদার বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে এ জবানবন্দি দেয়। আদালত টিকটক হৃদয়কে কারাগারে এবং রাতুল শিকদারের বয়স কম হওয়ায় সেফহোমে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত