ইংল্যান্ড ইনিংসের পঞ্চাশতম ওভার। শিরোপা জিততে তাদের প্রয়োজন ১৫। প্রথম দুই বল ডট। এরপর এক ছয় এলেও তিন বলে ৯ সমীকরণ কিউইদের দিকে হেলে থাকে। ফুর্তিবাজ ইংল্যান্ড সমর্থকরা যেন ফুর্তি করতে ভুলে গেছে। এমন সময় মিরাকল। ভাগ্যদেবতা ভর করেছিল স্টোকসের ব্যাটে। তাই শট না করেও ব্যাটের ছোঁয়ায় পেলেন বাড়তি চার।
অবশেষে সমর্থকদের হাসি-কান্নার ভেলায় চড়িয়ে স্টোকস খেলাটাকে নিয়ে গেলেন সুপার ওভারে। সেখানে বাটলারকে সঙ্গে নিয়ে সর্বসাকুল্যে সংগ্রহ ১৫। জিমি নিশাম সেই টার্গেটকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে তিন বলেই তুললেন ১১। আর্চারের দৃঢ়তায় প্রয়োজন এক বলে ২। অভিজ্ঞ গাপটিল স্ট্রাইকে। মাঠে উপস্থিত দর্শকের মতো মাঠের বাইরে উপস্থিত ১৮ হাজার সমর্থক সবাই মূর্তির মতো চুপ। ট্র্যাফালগার স্কয়ারে ছেলের ইচ্ছে পূরণে বাবা ডাইল্যান বার্নি বসিয়েছেন ২০ ফুট জায়ান্ট স্ক্রিন। সেখানে উপস্থিত আরও ৫ হাজার সমর্থক। কেউ জায়গা না পেয়ে ফোয়ারার ওপর গিয়ে দাঁড়িয়েছেন। সবার চোখ বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষে বিনামূল্যে সম্প্রচারিত লাইভ টেলিকাস্টের ওপর। আর্চারের বল ডিপ মিডউইকেটে পাঠিয়ে গাপটিলের শিরোপা ছোঁয়া দৌড়। কিন্তু ইঞ্চিখানেক ব্যবধানে রান আউট। ইংল্যান্ড সমর্থকদের গগনবিদারী উল্লাস। ফুর্তিবাজ ইংলিশরা পেল নতুন প্রাণ। কারণ, ৪৪ বছরের অবসান। ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপে নতুন চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড।
ইংল্যান্ডে ক্রিকেটের আমেজ কম। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগেও রাস্তায় ইংলিশদের জিজ্ঞাসা করলে অনেকেই বলতে পারত না ফাইনালে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ কে? সেই ইংল্যান্ডে জমজমাট এক ফাইনালে ক্রিকেটের জোয়ার। বাচ্চারা মরগান, বাটলার, স্টোকস হওয়ার অনুপ্রেরণা নিচ্ছে। এক সমর্থক বলেন, ‘ক্রিকেটের মাঝে আমরা ভবিষ্যতের সুরক্ষা খুঁজে পেলাম। এই বিশ্বকাপের শেষে ক্রিকেটের উন্মাদনা যেভাবে ছড়িয়েছে তা অতীতে দেখা যায়নি।’ মাঠে খেলা দেখতে এসে টিকিট না পাওয়া আরেক সমর্থক বলেন, ‘টিকিট পাইনি বলে খেলা দেখতে পারিনি। তবে স্টেডিয়ামের বাইরে থাকতে পেরেও আমি গর্বিত।’ কুয়েত থেকে উড়ে আসা আরেক ভারতীয় সমর্থক বলেন, ‘ক্রিকেট আমাদের সবাইকে একসুতায় বেঁধে নিয়েছে।’ এদিকে ’৬৬ ফুটবল বিশ্বকাপ জয়ের উন্মাদনা দেখা ৭১ বছরের সিলভিয়া রবসন জানান, স্টোকসরা আমাকে ’৬৬ স্মরণ করিয়ে দিল। আমার মেয়ে গর্ভবতী। আমি ওকে বলেছি আসন্ন সন্তানের নাম যেন ফাইনাল সেরা অতিমানব ‘স্টোকস’-এর নামে রাখে।
