নিষিদ্ধের পরও কলেজে মোবাইল ফোন আনায় শিক্ষার্থীদের ৫ শতাধিক মোবাইল ফোন পুড়িয়ে ফেলেছে রাজধানীর ধানমণ্ডি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্র্তৃপক্ষ। গত শনিবার এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা অনেকেই ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একা কলেজে যাই। নিরাপত্তার জন্য অভিভাবকরা সঙ্গে মোবাইল দিয়ে দেন। অথচ কলেজ থেকে ফোন আনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গত শনিবার শিক্ষকরা আমাদের থেকে ৫ শতাধিক মোবাইল নিয়ে সেগুলো ভেঙে ফেলেন। পরে তা জ্বালিয়ে দেন।’
বিষয়টি স্বীকার করে অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘৫০০ নয়, হাতেগোনা কয়েকটি ফোন ভাঙা হয়েছে। কলেজে শিক্ষার্থীদের মোবাইল আনা নিষেধ এমন নিষেধাজ্ঞার পরও তারা একাধিকবার তা লঙ্ঘন করেছে। গত সপ্তাহেও এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়।’ তিনি বলেন, ‘ক্লাস চলাকালীন ফোন বেজে উঠলে অসুবিধা হয়। এ ছাড়া অনেকে ক্লাসে বসেই ফোনে কথা বলে। এতে শিক্ষকদের পড়াতে সমস্যা হয়। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের কাজ আর কেউ না করে, সে জন্য মোবাইল জব্দ করে তা পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার বাসা মিরপুর সাড়ে ১১। কলেজে দূর হওয়ায় ছেলের সঙ্গে মোবাইল দিয়ে দিই। সব দিন সঙ্গে যেতে পারি না। কিন্তু কলেজ কর্র্তৃপক্ষ যদি মোবাইল নিষিদ্ধ করে দেয় তাহলে যাওয়ার পথে সন্তানদের নিরাপত্তা কে নেবে?’ মোবাইল পুড়িয়ে ফেলার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘কর্র্তৃপক্ষ এভাবে মোবাইল নিষিদ্ধ করতে পারে না।’
এ বিষয়ে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক ড. মো. হারুন-আর-রশিদ বলেন, ‘কলেজে মোবাইল আনার অপরাধে তা ভাঙা ও পুড়িয়ে ফেলা যায় না। এটা খুবই দুঃখজনক ও ন্যক্কারজনক ঘটনা। কলেজ কর্র্তৃপক্ষের কোনোভাবেই এ ধরনের কাজ করা উচিত হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা লিখিত অভিযোগ করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’
