ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ট্রেনে গুলিবর্ষণ মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতাকর্মীর স্বজনদের প্রতি ‘সহানুভূতি প্রদর্শন’ করতে ঈশ্বরদীতে এসেছিলেন বিএনপি দলীয় ছয় সংসদ সদস্য।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা থেকে তারা ঈশ্বরদীতে এসে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের গ্রামের বাড়ি উপজেলার সাহাপুরে দণ্ডপ্রাপ্ত নেতাকর্মীর স্বজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ উপলক্ষে আয়োজিত সভায় হাবিবুর রহমান হাবিবের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের এমপি হারুনুর রশীদ, বগুড়া সদর আসনের গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ (জিএম সিরাজ), চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের আমিনুল ইসলাম, বগুড়া-৪ আসনের মোশাররফ হোসেন, ঠাকুরগাঁওয়ের জাহিদুর রহমান জাহিদ, সংরক্ষিত আসনের মহিলা সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমীন ফারহানা, অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার প্রমুখ।
সহানুভূতি সভায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের হারুনুর রশীদ বলেন, বাংলাদেশ এখন জংলীরা পরিচালনা করছে। এই দেশ এখন অনির্বাচিতদের হাতে। তাই একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে দেশ পরিচালনার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, লন্ডন থেকে তারেক রহমান মামলার বিষয়টি সরাসরি তদারকি করছেন, আপনাদের দুঃশ্চিন্তার কারণ নেই। দেশে আইনের শাসন থাকলে মহামান্য হাইকোর্ট থেকে সাবাই এই মামলা থেকে খালাস পাবেন। এছাড়াও দন্ডপ্রাপ্ত সব নেতাকর্মীর পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ঈশ্বরদীর যে ঘটনায় একজন আহতও হয়নি, সেই ঘটনার মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, বাংলাদেশে নূন্যতম আইনের শাসন যদি থাকে, তাহলে উচ্চ আদালতে এই মামলা খারিজ হয়ে যাবে। তাছাড়া এই রায় সরকারের ফমায়েশি রায়। এই রায় এদেশের জনগণ কেউ মেনে নেয়নি। বিদেশিরাও বিষয়টি উদ্বেগ জানিয়েছে।
সাংসদ জি এম সিরাজ বলেন, আমরা ছয়জন সংসদ সদস্য ঈশ্বরদীতে আসার সময় পুলিশ আমাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যার্থ হয়েছে, বাংলাদেশ এখন পুলিশী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।
সহানুভূতি সভায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির সব নেতা-কর্মীর আত্মীয়রা ছাড়াও পাবনা জেলা বিএনপি এবং আশে-পাশের বিভিন্ন জেলার বিএনপিসহ অঙ্গসহযোগী সংগঠনের বিপুল নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পাবনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক।
