রাঙ্গামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক

আরসিসি দেয়ালের উদ্যোগ

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৯, ০২:২০ এএম

রাঙ্গামাটির পাহাড়ি অঞ্চলে ঘণ্টাখানেক ভারী বৃষ্টি হলেই শুরু হয় আতঙ্ক। প্রতি বর্ষায় স্থানীয় বাসিন্দাসহ ওই অঞ্চলের সড়কে চলাচলকারীরা আশঙ্কায় থাকেন পাহাড় বা ভূমিধসের। গত শনিবারও রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ের সড়কে অটোরিকশাগামী দুই যাত্রী পাহাড়ধসে মারা গেছেন। এমন প্রেক্ষাপটে রাঙ্গামাটির ঝুঁকিপূর্ণ সড়কের পাশে স্থায়ী আরসিসি দেয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য প্রায় ২৫০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। সড়ক

ও জনপথ অধিদপ্তর ২০২২ সাল নাগাদ এই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে চায়। সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে এ সংক্রান্ত প্রকল্পের উন্নয়ন প্রস্তাবনা (ডিপিপি) পাঠানো হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, রাঙ্গামাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলো চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি জাতীয় মহাসড়কে যুক্ত। ২০১৭ সালের জুনে দুদিনের টানা বর্ষণে ১২৮টি স্পটে পেভমেন্ট বিধ্বস্ত হয়ে রাঙ্গামাটির সঙ্গে চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাপমারীতে পাহাড়ধসে ৫০ মিটার সড়ক বিলীন হয়ে যায়। রাঙ্গামাটি-মানিকছড়ি-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়কেরও বিভিন্ন স্পটে মোট ৫০ মিটার সড়ক বিলীন হয়। এরপর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রকৌশল বিভাগ স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে।

এ সুপারিশের আলোকে ‘পাহাড় ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ড্রেনসহ স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল’ নির্মাণ সংক্রান্ত প্রকল্পটি তৈরি করা হয়। এতে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় ধরা হয় ২৪৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা। প্রকল্পটি নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হয়। সভায় বেশ কিছু পরামর্শও দেওয়া হয়। সেই পরামর্শের ভিত্তিতে প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধন করে পুনরায় পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিস বলেন, প্রকল্পটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তবায়িত হলে রাঙ্গামাটি জেলায় উন্নত, নিরাপদ ও টেকসই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সৃষ্টি হবে। প্রকল্পটি আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাবে। এজন্য প্রকল্পটি আগামী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। 

ডিপিপিতে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় পাহাড়ি এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ধস ঠেকাতে রক্ষাপ্রদ কাজের জন্য আন্তর্জাতিক মানের পরামর্শক নিয়োগ করা হবে। এজন্য ৩০ কোটি টাকা আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বরাদ্দের অর্থ দিয়ে ওই সড়কের ৫১টি স্থানে ৫ মিটার উচ্চতার ১ হাজার ৫৯২ মিটার আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল, ৭৩টি স্থানে ৬ মিটার উচ্চতার ২ হাজার ৬৪৮ মিটার ওয়াল ও ২৭ স্থানে ৭ মিটার উচ্চতার ১ হাজার ২৩০ মিটার ওয়াল নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া ৩ লাখ ২৯ হাজার ৮০৬ ঘনমিটার সড়কের বাঁধে মাটির কাজ, ৬ হাজার ২২৫ মিটার আরসিসি (সসার) ড্রেন নির্মাণ ও ১ হাজার ৫১০ মিটার আরসিসি (ইউ) ড্রেন নির্মাণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত