লঙ্কা জয়ের প্রস্তুতিতে ক্রিকেটাররা

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৯, ০১:৩৫ এএম

দীর্ঘ সফর থেকে তারা দেশে এসেছেন মাত্র। অনুশীলন ও খেলার মধ্যেই ছিলেন সবাই। বিশ্বকাপের সেমিতে খেলার আশা পূরণ না হলেও এখন নতুন এক চ্যালেঞ্জ সামনে। শ্রীলঙ্কাকে তাদেরই মাটিতে তিন ওয়ানডে সিরিজে হারানো। বাংলাদেশ সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তিন দিনের অনুশীলনের প্রথম দিনটা বেশ হালকা মেজাজেই কাটাল।

জাভেদ ওমর বেলিম এসেছিলেন কাজে। অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার সঙ্গে জমজমাট খুনসুটি হয়ে গেল। যেমনটা হতো খেলোয়াড়ি জীবনেও। তবে ১৪ সদস্যের মধ্যে সবাই ছিলেন না। মাশরাফী ছাড়াও ছিলেন মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, মোস্তাফিজুর রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ ও সৌম্য সরকার। ফুটবল খেলে শরীরটা গরম করে যে যার মতো করে নেটে ব্যাটিং-বোলিং করে নিলেন কিছুটা। গতকাল দুপুরের এই সেশনে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন, ভারপ্রাপ্ত ব্যাটিং উপদেষ্টা ওয়াসিম জাফর আর ট্রেনার তো ছিলেন। সাব্বির রহমান, মোহাম্মদ মিঠুন, রুবেল হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে পাঠানো হয়েছে চট্টগ্রামে। আফগানিস্তান ‘এ’ দলের সঙ্গে কাল বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথমটা খেলবেন। এনামুল হক বিজয়ও সেখানে। তাইজুল ইসলাম ভারতে।

তবে গেল দিনের হালকা চালের দিনে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ খালেদ মাহমুদের স্থায়ী প্রধান কোচ হওয়ার ইচ্ছেটা আরও প্রকাশিত হলো। আলোচনা চলল তা নিয়ে। যদিও আগ্রহ প্রকাশ করেও এখনো সাড়া পাননি। ‘সেভাবেই আমি চেয়েছি। আমার সঙ্গে এখনো কোনো কথা হয়নি এই ব্যাপারে। বোর্ড আমার সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। আকরাম (খান) ভাই (ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির প্রধান) আমাকে বলেছেন, তুই আপাতত দেখাশোনা কর। বোর্ড এখন পর্যন্ত আমার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো যোগাযোগ করেনি’Ñ বলছিলেন খালেদ মাহমুদ।

আগে একবার অন্তর্বর্তী কোচ হয়ে কাজটাকে উপভোগ করতে পারেননি সাবেক অধিনায়ক এবং নিয়মিত ম্যানেজার। তখন এই বিষয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে জাতীয় দলের সঙ্গে থাকার পরিবেশ নেই বলেও উল্লেখ করেছিলেন।

সময় বদলেছে। খালেদ মাহমুদ কোচ হিসেবে ঘরোয়ায় সফল। তা ঢাকা লিগ থেকে শুরু করে বিপিএল, সবখানে। এখন অবশ্য বলছেন, ‘দেশের স্বার্থে আমি সবসময় কাজ করে যেতে চাই। দেশের যদি আমাকে প্রয়োজন হয় আমি প্রস্তুত।’

কিন্তু এভাবে হঠাৎ করে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করা কি কঠিন বিষয় না?

খালেদ মাহমুদের জবাব, ‘সেটা তো অবশ্যই। কোচের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা থাকে। স্টিভ রোডস যখন বাংলাদেশে এসেছিল তার কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ ভালো যায়নি। এরপর বাংলাদেশ তার অধীনে বেশ কয়েকটি ম্যাচ জিতেছে। সময়ের প্রয়োজন হয় পরিকল্পনা করার জন্য।’ এর সঙ্গে জুড়ে দিলেন তার এই দায়িত্বে আসার প্রবল ইচ্ছের কথা, ‘যদিও আমি বাংলাদেশ দলের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানি। কারণ দলের সঙ্গে আমি অনেক দিন ধরেই আছি। তারপরও দীর্ঘ সময়ের জন্য সুযোগ পেলে যেকোনো মানুষের জন্য কাজ করতে অবশ্যই সুবিধা হয়।’

বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ম্যাচটা বৃষ্টিতে ভেসে গেছে। ওই ম্যাচ জেতার আত্মবিশ্বাস বাংলাদেশের ছিল। ৪৫ ম্যাচের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭ জয়। হার ৩৬টিতে। তবে ২০১৭-তে লঙ্কা সফরে গিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ১-১-এ ড্র করেছিল মাশরাফীর দল। একটির ফলাফল হয়নি। ওই মাটিতে আরেকটি যে জয় আছে তা ২০১৩ সালের। খেলা উপমহাদেশে। শ্রীলঙ্কাকে তাদের ঘরে কিছুদিন আগে টি-টোয়েন্টি এবং টেস্টেও বাংলাদেশের হারানোর অভিজ্ঞতা আছে।

বিশ্বকাপে অতিমানবীয় অলরাউন্ড পারফরম্যান্স করা সাকিব ছুটিতে। লিটন দাসও বিয়ের জন্য নেই। সাকিবকে খুব মিস করবেন জানিয়েও এই দলটাকে সেরা মানছেন খালেদ মাহমুদ এবং চ্যালেঞ্জ নিয়ে সিরিজ জিতে ফেরার প্রবল বিশ্বাস তার উচ্চারণে, ‘শ্রীলঙ্কা সিরিজটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদিও আমরা এই সিরিজে কিছু খেলোয়াড়কে মিস করব, তবে আমি মনে করি আমাদের দলটা যথেষ্ট ভারসাম্যপূর্ণ। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আমরা এর আগেও খেলেছি। যদিও সেয়ানে সেয়ানে লড়াই হয়। তবুও আমি আশা করি আমরা ভালো করব।’

এই ভালো করার মানে যে সিরিজ জেতা তা কি আর আলাদা করে বলে দেওয়ার দরকার পড়ে!

 

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত