ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের হওয়া মামলায় ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস সামশ জগলুল হোসেন মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আগামী ৩১ জুলাই সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য দিন ধার্য করেন।
মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত গত মার্চ মাসে তার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করলে ওসি মোয়াজ্জেম তাকে থানায় ডেকে জবানবন্দি নিয়েছিলেন।
তার কয়েক দিনের মাথায় নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়া হলে সারা দেশে আলোচনা শুরু হয়। তখন ওই জবানবন্দির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হলে গত ১৫ এপ্রিল ওসি মোয়াজ্জেমকে আসামি করে ঢাকায় বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়, মোয়াজ্জেম বেআইনিভাবে মোবাইল ফোনে নুসরাতের জবানবন্দির ভিডিও করেছেন এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়েছেন।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ওই অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানালে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস সামশ জগলুল হোসেন গত ২৭ মে মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
এদিকে নুসরাতের মৃত্যুর পর ওসি মোয়াজ্জেমকে প্রথমে সোনাগাজী থানা থেকে প্রত্যাহার করে রংপুর রেঞ্জে পাঠানো হয়। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় পুলিশ বাহিনী থেকে।
কিন্তু আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিলে তা তামিল করা নিয়ে ফেনী ও রংপুর পুলিশের মধ্যে বেশ কয়েক দিন ঠেলাঠেলি চলে।
এই পরিস্থিতিতে সংবাদমাধ্যমে পরিদর্শক মোয়াজ্জেমের লাপাত্তা হয়ে যাওয়ার খবর আসে। পরে গত ১৬ জুন ঢাকার হাইকোর্ট এলাকা থেকে মোয়াজ্জেমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য পুলিশ পরিদর্শক মোয়াজ্জেম হোসেনকে গতকাল কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
মামলা থেকে তার অব্যাহতি চেয়ে আদালতে শুনানি করেন তার আইনজীবী আবু সাঈদ সাগর ও ফারুক আহম্মেদ।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে এ আদালতের পিপি নজরুল ইসলাম শামীম শুনানিতে বলেন, ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ায় ‘গোটা জাতির’ সম্মানহানি হয়েছে। ব্যারিস্টার সুমন তার বিবেকবোধ থেকে এ মামলা করেছেন।
দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারক আসামির অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে তার বিচার শুরুর আদেশ দেন।
