হজরত রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি হজ সম্পন্ন করল এবং আমার মৃত্যুর পর আমার কবর জিয়ারত করল, সে যেন আমার জীবদ্দশায়ই জিয়ারত করল।’ Ñমিশকাত : ২৭৫৬। উম্মতে মুহাম্মদির কাছে পবিত্র নগরী হচ্ছে মদিনা মুনাওয়ারা। তবে মদিনা জিয়ারত করা হজের কোনো অংশ নয়। নবী করিম (সা.) মদিনার জন্য দোয়া করেছেন এই বলে যে, ‘হে আল্লাহ! মক্কায় তুমি যে বরকত দান করেছ, মদিনায় তার দ্বিগুণ বরকত দান কর।’ সহিহ বোখারি : ১৮৮৫
মসজিদে নববি বিশাল একটি মসজিদ কমপ্লেক্স। এখানে প্রায় ১০ লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। তার পাশে রয়েছে জান্নাতুল বাকি কবরস্থান। যেখানে হাজার হাজার সাহাবির কবর রয়েছে। আর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজার সবুজ গম্বুজটি কিবলার দিকে। মসজিদে নববিতে কিংবা পৃথিবীর যেকোনো মসজিদে প্রবেশ করার সময় পবিত্র হওয়া আবশ্যক। মসজিদে ডান পা দিয়ে প্রবেশ করার পাশাপাশি দোয়া পড়ে প্রবেশ করতে হয়। সেই সঙ্গে মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করতে হয়। মসজিদে নববিতে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজায় সালাম পেশ করতে হয়। রাসুলের রওজায় সালাম পেশ করার ইচ্ছা যেকোনো মুমিনের পরম স্বপ্নের বিষয়। রাসুলের রওজায় সালাম পেশ করার নিয়ম হলোÑ বাবুস সালাম গেট দিয়ে রওজা শরিফের উদ্দেশে প্রবেশ করতে হয়। অতি বিনয়ের সঙ্গে দাঁড়িয়ে এভাবে সালাম করবেনÑ আসসালাতু ওয়াসসালামু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ। আসসালাতু ওয়াস সালামু আলাইকা ইয়া হাবিবাল্লাহ। আসসালাতু ওয়াস সালামু আলাইকা ইয়া খাতামান নাবিয়্যিন। আসসালাতু ওয়াস সালামু আলাইকা ইয়া রাহমাতাললিল আলামিন।
রওজায় সালাম পেশের পাশাপাশি রিয়াজুল জান্নাতে (জান্নাতের বাগান) নামাজ আদায়ের চেষ্টা করবেন। রিয়াজুল জান্নাত প্রসঙ্গে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, আমার ঘর এবং মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানটি বেহেশতের বাগানসমূহ থেকে একটি বাগান (রওজাতুম মিন রিয়াজিল জান্নাতে)। আমার এই মিম্বর (হাশরের ময়দানে) আমার হাউজে কাওসারের কিনারে স্থাপিত হবে। Ñ সহিহ বোখারি : ১১৯৬। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা জিয়ারত করতে যাবেন অবশ্যই রাসুল (সা.)-এর মর্যাদা এবং সম্মানের প্রতি খেয়াল রাখবেন। উচ্চৈঃস্বরে কোনো কথা বলবেন না। ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি করবেন না এবং কবরের সামনে বেশিক্ষণ দাঁড়াবেন না। সেলফি ওঠাবেন না। মসজিদে নববিতে যারা যাবেন, সেখানে নামাজ আদায় করবেন। তবে ৪০ ওয়াক্ত নামাজ সেখানে আদায় করতেই হবে এটা জরুরি নয়।
নারীরা রওজা শরিফ জিয়ারতের জন্য মসজিদে নববির ২৫ নম্বর গেইট দিয়ে প্রবেশ করতে হয়। ভেতরে থাকা সৌদি আরবের দায়িত্বশীল নারীকর্মীদের নির্দেশনা মোতাবেক সামনের দিকে ধীরে ধীরে যাবেন। সেখানে যথেষ্ট ভিড় থাকে, তাই অন্তত ২/৩ ঘণ্টা সময় নিয়ে যেতে হবে। অধৈর্য হওয়া যাবে না। নারীদের জিয়ারতের সময় প্রতিদিন ফজর, জোহর ও এশার নামাজের পর। তবে সময় পরিবর্তন হয়ে থাকে। যাওয়ার পর সঠিক সময় জেনে নিলে ভালো হয়। মদিনায় দর্শনীয় অনেক বরকতময় ও দর্শনীয় স্থান রয়েছে। এর অন্যতম হলোÑ মসজিদে কুবা। দুনিয়ায় ফজিলতপূর্ণ চার মসজিদের একটি। মসজিদটি মদিনা শরিফের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত। এর দূরত্ব মসজিদে নববি থেকে পাঁচ কিলোমিটারের মতো। নবী করিম (সা.) মদিনায় হিজরতের প্রথম দিন কুবায় অবস্থানকালে এ মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন এবং নির্মাণকাজে সাহাবাদের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। নবুওয়াত পাওয়ার পর এটাই প্রথম মসজিদ, এমনকি ইসলামের এবং উম্মতে মুহাম্মদির প্রথম মসজিদ। এ মসজিদের আলোচনা কোরআনে কারিমে করা হয়েছে। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) প্রতি শনিবার পায়ে হেঁটে অথবা বাহনে চড়ে মসজিদে কুবায় আসতেন। Ñ সহিহ বোখারি : ১১৯৩
লেখক : মুফতি, শিক্ষক ও ইসলাম বিষয়ক লেখক
