গত কয়েকদিন ধরেই রাজধানীতে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের সংখ্যা। মশাবাহিত এই রোগটির আতঙ্কে আছে সবাই। তবে, আশার কথা হলো ডেঙ্গু কিংবা জিকার মতো প্রাণঘাতী রোগ ছড়ানো মশা নির্মূলের প্রযুক্তি আবিষ্কারের কথা জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
এবিসি নিউজের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে চীনের দুটি দ্বীপে নতুন এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা সফল হয়েছেন। কিন্তু সমস্যা হলো এটি বেশ খরুচে এবং বিস্তৃত এলাকায় প্রয়োগে কিছু জটিলতা আছে।
মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা এশিয়ান টাইগার মশাকে টার্গেট করে গবেষণাটি চালান। সাদা ডোরাকাটা এই মশা জিকা এবং ডেঙ্গুর পাশাপাশি নানা ধরনের রোগ ছড়ায়।
গবেষকরা একটি পেস্ট কন্ট্রোল ব্যবহার করেন। প্রথমে তারা দ্বীপের সব মশাকে ভাইরাস প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া দিয়ে সংক্রমিত করেন। এরপর সীমিত পরিসরের রেডিয়েশনের মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত করেন। এতে দেখা গেছে, ক্ষতিকর ওই মশা আর বংশবিস্তার করতে পারছে না। এর আগে এই ধরনের মশা নির্মূল করতে অন্য কোনো প্রযুক্তি এতটা সফল হয়নি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর ৫ লাখ মানুষ ডেঙ্গুতে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে গড়ে সাড়ে বারো হাজার মানুষ মারা যায়।
ঢাকার মতো এশিয়ান শহরে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারলে সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। ওষুধ প্রয়োগ করেও মশা মারতে না পারার কথা প্রায়ই শোনা যায় এখানে।
তবে সমস্যা হলো এইভাবে মশার বিস্তার ঠেকাতে হলে নিয়মিত মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে। তাতে প্রতি একর জমিতে বছরে খরচ পড়বে সাড়ে তিন হাজার থেকে সাড় পাঁচ হাজার টাকার মতো।
