স্পেশাল পুলিশ ফোর্সের প্রস্তাব নাকচ জনপ্রশাসন ব্যাংক বিবেচনাধীন

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৯, ০১:৩৯ এএম

শেষ হলো পাঁচ দিনের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন। গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ দিনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংক্রান্ত কার্যঅধিবেশন হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এসব অধিবেশনে সংশ্লিষ্টরা ডিসিদের বিধিবিধান অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের সভাপতিত্বে এসব অধিবেশন হয়। এরপর বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনাররা।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, পেনাল কোড (সিআরপিসি) অনুযায়ী, সরল বিশ^াসে কৃতকর্ম অপরাধ না। তবে সরল বিশ^াস যেন সরল বিশ^াসই হয়, তা নিশ্চিত হতে হবে। ডিসি সম্মেলনে ডিসিদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি

এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ডিসিরা জানতে চেয়েছেন দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য কী করণীয়? দুদকের সবচেয়ে বড় কাজ হচ্ছে দুর্নীতি প্রতিরোধ। দমনটা অনেক পরে আসে। আমাদের কাজটা মামলা করা না। মূল কাজটা হচ্ছে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা। আমরা ডিসিদের বলেছি, দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য আমাদের যেসব কর্মসূচি রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য। এজন্য প্রাইমারি ও হাই স্কুলে যাতে মানসম্মত শিক্ষা হয় সে ব্যাপারে নজর রাখতে বলা হয়েছে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ডিসিরা জেলার সার্বিক তত্ত্বাবধান করে থাকেন। মাঠপর্যায়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যক্রমও তাদের দেখভাল করার জন্য বলেছি। কমিশনের কাজে গাফিলতি বা দুর্নীতি দেখলে সেটা আমাদের বলতে বলেছি।

ডিসিদের প্রস্তাবিত সার্বক্ষণিক স্পেশাল পুলিশ ফোর্সের প্রস্তাব নাকচ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, বিশেষ পুলিশ তো প্রয়োজন নেই। কারণ পুলিশরা সবসময় ডিসিদের সহযোগিতা করে। ডিসিদের নির্দেশনায় পুলিশ সব জায়গায় কাজ করছে। বিজিবি, আনসারসহ আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী সবসময় একসঙ্গে কাজ করে।

তিনি বলেন, ডিসিরা প্রতি বছরই প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা নেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে তারা কী ধরনের অসুবিধা ভোগ করছেন এবং কী ধরনের পদক্ষেপ নিলে তারা আরও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যঅধিবেশনে সেসব বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী যে জিরো টলারেন্সের কথা বলেছেন, সেই জায়গায় তারা কাজ করবেন। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ যেভাবে দমন করে চলেছি, সে বিষয়ে তারা খেয়াল রাখবেন। যাতে করে আবার কোনো সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, চরমপন্থিÑ এদের আবির্ভাব না ঘটে। মাদক বিষয়ে ডিসিদের জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য বলা হয়েছে। এজন্য স্কুল, ছাত্র-শিক্ষক-জনতাসহ সব পেশাজীবীকে এ সংগ্রামে সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দিয়েছি।

মাঠ প্রশাসন দুর্নীতিমুক্ত করতে ডিসিদের নির্দেশ দিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। একই সঙ্গে তিনি কোনো ভোগান্তি ছাড়া জনগণ যাতে সেবা পায় তা নিশ্চিত করারও নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণশুনানি আরও চমৎকারভাবে করার জন্য বলা হয়েছে। জেলা হাসপাতালগুলো, পাসপোর্ট অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দালাল ও জনহয়রানিমুক্ত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মিউটেশন বা নাম খারিজ করার বিষয়গুলো আরও দ্রুততার সঙ্গে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের আলাদা ব্যাংক প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা একটি ব্যাংক করতে পারি কি না সেটা তারা প্রস্তাব দিয়েছেন। সেটা আমরা বিবেচনা করব বলেছি। ব্যাংকের বিষয়টি যৌক্তিক কি নাÑ জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেকোনো সংস্থা চাইতেই পারে। চাওয়ার অধিকার আছে। জনপ্রশাসনের পাঁচ হাজার কর্মকর্তা কাজ করছেন। এছাড়া যারা সাবেক আছেন, তারাও সম্পৃক্ত হতে পারেন। যদি দেশের জন্য কল্যাণকর হয়, সেটা অবশ্যই করা যাবে। আর যদি কল্যাণকর না হয় সেটা বিবেচনার দায়দায়িত্ব সরকারের।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত