আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। তার ধ্বংসাত্মক ব্যাটিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে বাংলাদেশ জিতেছিল প্রথম কোনো বহুজাতিক শিরোপা। সাব্বির রহমানকে টপকে তাই ২০১৯ বিশ্বকাপের সাত নম্বর জায়গাটি পেয়ে গিয়েছিলেন। মোসাদ্দেক হোসেন নিজে কী ভাবেন? বিশ্বকাপটা কেমন গেছে তার?
না, বলতে পারবেন না ভালো গেছে। যেমন বলতে পারলেন না বাংলাদেশের দলগত পারফরম্যান্স নিয়েও, ‘আমি আমার দিক থেকে বলব যে অ্যাভারেজ একটা বিশ্বকাপ আমরা পার করেছি।’
শুক্রবার বাংলাদেশ দল যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা সফরে। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। সাকিব আল হাসান নেই। লিটন দাসও না। তাহলে কি তিন নম্বর বা ওপরের দিকে সুযোগ মিলতে পারে? ওসব নিয়ে মনে কোনো ভাবনা থাকলেও গতকাল মিরপুরে প্র্যাকটিস সেশনের পর তা প্রকাশ করলেন না মোসাদ্দেক, ‘আসলে পুরো বিশ্বকাপে বা পুরো আয়ারল্যান্ড সিরিজ থেকে শুরু করে যে জায়গাতে ব্যাটিং করেছি আমার মনে হয় শ্রীলঙ্কাতেও সেখানে ব্যাটিং করতে হবে। টিম কম্বিনেশন বলেন বা যেটাই বলেন, মানে ওখানটাতেই মনে হয় আমি সেট। এর বাইরে কিছু চিন্তা করছি না আসলে।’
যে জায়গাটি তার জন্য বরাদ্দ সেখানে অল্প বলে বেশি রান করা সবচেয়ে বড় দাবি। দলের প্রয়োজনও তাই। আগেরবার বাদ পড়ে যাওয়ার পর আয়ারল্যান্ড সিরিজ দিয়ে এই অলরাউন্ডার ঢুকেছেন জাতীয় দলে ফের। আর তা শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়েছে আবাহনীর অধিনায়ক হিসেবে জাতীয় দলে যে পজিশনে তার সম্ভাবনা সেখানটায় ব্যাট করে কয়েকটা ম্যাচ জিতিয়ে। এবং সেই ক্ষেত্রে হাই-স্ট্রাইক রেটের দিকে সবচেয়ে বড় নজর ছিল ৩৩ ওয়ানডে খেলা ২৩ বছরের ডানহাতি ব্যাটসম্যানের, ‘আমি আসলে বিশ্বকাপের আগে থেকে শুরু করে, প্রিমিয়ার লিগ থেকেই স্ট্রাইক রেটের প্রতি ফোকাস করছিলাম। আমি এখন যখন ব্যাটিং করতে যাব তখন হয়তো একই পরিস্থিতি থাকবে। হয়তো খারাপ পরিস্থিতি থাকলে আমাকে ভালো করে দলকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে। তাই এটা নিয়ে অবশ্যই কাজ করছি যে ভালো পরিস্থিতি পেলে কী করতে হবে এবং খারাপ পরিস্থিতিতে দলকে কীভাবে বাঁচাতে হবে।’
আর স্ট্রাইক রেটের প্রসঙ্গ এলে কীভাবে নিজেকে তৈরি করে যাচ্ছিলেন সেটাও জানিয়ে গেলেন ময়মনসিংহের ছেলেটা, ‘প্রিমিয়ার লিগ থেকেই এই ব্যাপারগুলোর ওপর আমি ফোকাস করছিলাম। এছাড়া আমাদের আর কোনো টুর্নামেন্ট ছিল না। আপনি যদি বিপিএলে দেখেন, আমি কিন্তু চার-পাঁচটি ম্যাচে ১৭০-৮০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করেছি। এখান থেকে আসলে মূলত আমি ফোকাস করছি যে এখানে খেলতে গেলে আমার এমন স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করতে হতে পারে।’
নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত করেই শ্রীলঙ্কা সফরে ভালো করার ইচ্ছে। দীর্ঘ সফরের পার পাওয়া সামান্য বিশ্রামটা অন্যদের মতো মোসাদ্দেকেরও কাজে এসেছে। মাহমুদউল্লাহ বিশ্বকাপে বল করতে পারেননি। শ্রীলঙ্কাতেও সেই সম্ভাবনা কম। তাই অফ স্পিনে মোসাদ্দেককে নির্দিষ্ট একটা ভূমিকা প্রতি ম্যাচে পালন করতে হয়। সাফল্য মিলছে। আবার মিলছে না কখনো। কিন্তু নিজেকে কোনোভাবে বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে মানতে নারাজ মোসাদ্দেক। ওয়ানডেতে ২৯.১১ গড় ও ৮৮.৮১ গড়ে দুই ফিফটিতে ৫৯০ রান করা ব্যাটসম্যান জোর দিয়ে জানিয়ে গেলেন, ‘আমি একজন ব্যাটিং অলরাউন্ডার, এটাই আমার প্রধান ভূমিকা। তাই এখানে আমি এসে বলতে পারব না যে আমি বোলিং অলরাউন্ডার। বোলিং আমার দ্বিতীয় অপশন। আর ব্যাটিং আমার প্রথম অপশন।’
কিন্তু লঙ্কায় সফরে সম্ভবত বোলিংয়ের ভারটা অন্য সময়ের চেয়ে একটু বেশি নিতে হবে। সেজন্য নিজেকে মানসিকভাবে তৈরি করে রাখা মোসাদ্দেক শেষ টানেন এভাবে, ‘সাকিব ভাই থাকবেন না। তাই বোলিং ডিপার্টমেন্টে হয়তো একটু বেশি সুযোগ আসতে পারে। হয়তো আর্লি বোলিংয়ে আসতে হতে পারে। অথবা একটু বেশি ওভার করার সুযোগ আসতে পারে। আমি অবশ্যই সেটি নিয়ে প্রস্তুত। একটি প্ল্যান অবশ্যই মাথায় আছে। আপাতত এটি ফোকাস করছি, যখন যে সুযোগ পাব, ব্যাটিং এলে ব্যাটিং, বোলিং এলে বোলিং। এর বাইরে কিছু চিন্তা করছি না।’
