তিন মাসের জন্য জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের সদস্যপদ স্থগিত করেছে আইসিসি। নিজেদের ক্রিকেট বোর্ড পরিচালনায় সরকার/ক্ষমতাসীন দলের হস্তক্ষেপ থাকার অভিযোগে এই শাস্তির খড়গ পড়েছে জিম্বাবুয়ের ওপর। সম্প্রতি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থার কাছে বোর্ড পরিচালনায় সরকারের হস্তক্ষেপ না থাকার প্রমাণ দিতে পারেনি জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট।
তাই আগামী অক্টোবর পর্যন্ত জিম্বাবুয়েকে কোনোরকম তহবিল না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আইসিসি। এই সময়ের মধ্যে কোনো আইসিসি টুর্নামেন্টেও অংশ নিতে পারবে না জিম্বাবুয়ে। সদস্যপদ ফের ফিরে পেতে হলে তিন মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন করে স্বাধীন ক্রিকেট বোর্ড কমিটি ঘোষণা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বোর্ডটিকে। অক্টোবরে আইসিসি পরবর্তী সভায় ওই নির্বাচন ও কমিটি পর্যালোচনা করে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের ব্যাপারে নতুন সিদ্ধান্ত জানাবে। লন্ডনে গত সপ্তাহে কয়েক দফা বৈঠকের পর দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের ব্যাপারে এ সিদ্ধান্তগুলো জানায় আইসিসি।
পূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে ক্রিকেট বোর্ড পরিচালনা ও প্রশাসনে সরকারের হস্তক্ষেপ আইসিসির নিয়মবিরুদ্ধ। এ বিষয়টি নিশ্চিতের জন্য গণতান্ত্রিক নির্বাচনের বিধান রাখা হয়েছে। আইসিসির বোর্ড সংক্রান্ত নিয়মের ২.৪ (সি) ও (ডি) ধারায় এ ব্যাপারে বলা হয়েছে। যা অমান্য করা হলে শাস্তির বিধানও সেখানে লেখা রয়েছে। বোর্ড সভাসদদের সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আইসিসি চেয়ারম্যান শশাঙ্ক মনোহর জানান, ‘একটি পূর্ণ সদস্য দলের সদস্যপদ স্থগিত করার সিদ্ধান্তটা আমাদের জন্য কঠিন ছিল। কিন্তু ক্রিকেটকে আমরা রাজনীতির বাইরে রাখতে চাই। কোনোভাবেই ক্রিকেটে রাজনীতি জড়াতে দেওয়া যাবে না। এ কারণে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
জিম্বাবুয়ের সদস্যপদ সাময়িকভাবে বাতিল করার প্রধান কারণ দেখানো হয়েছে, আইসিসি ফান্ডের অপব্যবহার। জানা যায়, দেশটির ক্রিকেট বোর্ড আইসিসির কাছ থেকে প্রাপ্ত নির্ধারিত অর্থ খেলাটির উন্নয়ন ও ক্রিকেটারদের উন্নয়নের জন্য খরচ করছিল না। এছাড়া ক্রিকেটারদের বেতনভাতা ও সফরভাতা, ম্যাচ ফিও ঠিকমতো দিত না বোর্ড। এই ফান্ড ব্যবহার করা হয় সরকারের নিজস্ব খাতে। এ অভিযোগ সিংহভাগ প্রমাণ হওয়ায় জিম্বাবুয়েকে এ কঠিন শাস্তি দেওয়া হয়। এতে ইতিহাসে এই প্রথম কোনো পূর্ণ সদস্য দেশের সদস্যপদ স্থগিত করা হলো। এর আগে ২০১৫ সালে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটকে একই কারণে কড়াভাবে সতর্ক করে আইসিসি। এছাড়া সহযোগী সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অনেক দেশকেই নজরে রেখেছে আইসিসি। এর মধ্যে নেপাল এক নম্বরে, যদিও দেশটির ক্রিকেট দলকে আইসিসি ইভেন্টে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
গত জুনে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের নতুন নির্বাচন হয়েছিল। সেখানে বোর্ড চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন তাভেঙ্গাওয়া মুকুহলানি। ২০০৪ থেকে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের বিভিন্ন পদে কর্মরত ছিলেন তিনি। তার নির্বাচিত হওয়া নিয়েই যত বিতর্ক। তাই মুকুহলানি ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর গিভমোর মাকোনিসহ পুরো নির্বাচিত প্যানেলকে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট অফিস থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া সেখানে পুলিশি পাহারা রাখা হয়েছে যেন কোনো ফাইলপত্র বোর্ডের বাইরে না যেতে পারে। বোর্ডকে স্থগিত করায় জিম্বাবুয়ের কোনো ক্রিকেট দল আইসিসির কোনো ইভেন্টে অংশ নিতে পারছে না। জিম্বাবুয়ের মহিলা দল তাই আয়ারল্যান্ড সফরে যেতে পারছে না। এমনকি আগস্টে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাই পর্বেও অংশ নিতে পারবে না। আর অক্টোবরেই পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব। নতুন নির্বাচন আইসিসির নিয়মমতো হয়েছে তা প্রমাণ হওয়ার আগপর্যন্ত ওই আসরে খেলাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে জিম্বাবুয়ের।
