রাজধানীতে হাতবদলের সময় অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৯, ০৩:২৬ এএম

রাজধানীর শ্যামপুরের গে-ারিয়া এলাকায় হাতবদলের সময় ছয়টি বিদেশি অস্ত্র ও ১২৮টি গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই সময় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হাতবদলকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে চার সদস্য আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির ওয়ারী জোনের উপকমিশনার (ডিসি) ইব্রাহিম খান জানান, গতকাল সকাল পৌনে ৮টার দিকে শ্যামপুর থানা পুলিশের একটি ভ্রাম্যমাণ দল গেন্ডারিয়া কাঁচাবাজার এলাকায় অস্ত্রের লেনদেনের খবর পায়। এর ভিত্তিতে ওই দল ও থানা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে আরও একটি দল কাঁচাবাজারে অবস্থান নেয়। সকাল পৌনে ৯টার দিকে তারা দূর থেকে অস্ত্রের হাতবদলকারীদের দেখতে পেয়ে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেন। ওই সময় তাদের কয়েকজন পালিয়ে গেলেও পুলিশ সদস্যরা জাপটে ধরে ফেলেন তিনজনকে। তারা হলেন রাজু গাজী, মিনহাজুল ও শওকত।

ইব্রাহিম খান জানান, শওকত নামে একজনকে একটি ব্যাগসহ জাপটে ধরে ফেলেন শ্যামপুর থানার এএসআই মাসুম বিল্লাহ। ওই ব্যাগে পাঁচটি অস্ত্র পাওয়া যায়। এ ছাড়া রাজু গাজী নামে আরেকজন একটি অস্ত্র নিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তখন এসআই সোহাগ তাকে দৌড়ে ধরতে গেলে রাজু গুলি ছোড়ে। এতে সৌভাগ্যক্রমে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বেঁচে গেলেও রাজু ধরা পড়ে। তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া প্রত্যেকটি অস্ত্র লোডেড অবস্থায় ছিল। পরবর্তী সময়ে গণনা করে ১২৮টি গুলি পাওয়া যায়। অস্ত্রধারীদের ধরতে গিয়ে পুলিশের চারজন কর্মকর্তা ও সদস্য আহত হন। তারা হলেন কনস্টেবল মাহবুব, এএসআই মাসুম বিল্লাহ, এসআই সোহাগ ও ওসি মিজানুর রহমান। 

অস্ত্রের উৎস ও গন্তব্য সম্পর্কে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে অস্ত্রের উৎস, গন্তব্য সম্পর্কে জানতে পারিনি। কী কারণে কারা এই অস্ত্র সংগ্রহ করছিল কিংবা কারা সরবরাহ করছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘গে-ারিয়া কাঁচাবাজারে প্রকাশ্যে গোল হয়ে বসে তারা অস্ত্রের হাতবদল করছিল। এত অস্ত্র একসঙ্গে হাতবদল হয়ে কোনো সন্ত্রাসীর কাছে যেতে পারে, কেনাবেচা হতে পারে কিংবা কোনো অপরাধ কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে অস্ত্রগুলো আনা হয়েছিল কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাইড শেয়ারিংয়ে মোটরসাইকেল চালকের পরিচয় দিয়ে শওকত মিরপুর থেকে গে-ারিয়া গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন। তার পেছনে যে ব্যক্তি বসেছিলেন সেই যাত্রী ওই অস্ত্রের ব্যাগ বহন করেছিলেন। যদিও রাইড শেয়ারিংয়ের কোনো বৈধ তথ্য দিতে পারেননি শওকত। মিনহাজুল নিজেকে খিলগাঁও মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সের ছাত্র হিসেবে দাবি করেন। রাজু গাজীর বাড়ি চাঁদপুর ও শওকতের বাড়ি টাঙ্গাইলে বলে তারা জানিয়েছে।

অস্ত্রসহ যারা গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কোনো তথ্য নেই বলে জানান ডিসি ইব্রাহিম। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ওয়ারী জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার নাজমুন নাহার ও সহকারী কমিশনার রফিকুল ইসলাম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত