যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি তাদের ওপর নির্যাতন চালানোর জন্য মিয়ানমারকে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য করতে শক্ত অবস্থান নেবে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স গত বৃহস্পতিবার মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন।
গতকাল ঢাকায় প্রাপ্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, পেন্স ‘অ্যাডভান্সিং রিলিজিয়াস ফ্রিডম’ শীর্ষক দ্বিতীয় মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তৃতা করেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে ৪০ জন পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ১০৬টি দেশের প্রতিনিধিরা এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওয়ের আমন্ত্রণে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আয়োজিত এ বৈঠকে অংশ নেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও তার উদ্বোধনী বক্তৃতায় মার্কিন শীর্ষ পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন তার বক্তৃতায় বাংলাদেশে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয়দানে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ধন্যবাদ জানান। বাংলাদেশ মানবতার দেশ উল্লেখ করে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি মিয়ানমারকে তার নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য সে দেশের ওপর চাপ বৃদ্ধির আহ্বান জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকারের বিষয় তুলে ধরেন। ড. মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ ধর্মীয় বহুত্ববাদ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার সমুন্নত করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করছে। তিনি আরও বলেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতির কারণে আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নজিরবিহীন উন্নতি অর্জিত হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনের ফাঁকে হাঙ্গেরি, ইরাক, বাহরাইন ও মাল্টার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বাসস।
