বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো তার স্ত্রী ও আলোচিত এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে আইনি সহায়তা দেবেন বলে জানিয়েছেন ঢাকার ৪০ আইনজীবী। তবে এজন্য বরগুনার সংশ্লিষ্ট আদালত ও বারের অনুমতি চাইবেন তারা। অনুমতি না পাওয়া গেলে এ নিয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন এই আইনজীবীরা। গতকাল শুক্রবার রাতে দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা বারের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. ফারুক আহমেদ।
এই আইনজীবী জানান, তিনি এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ইব্রাহিম খলিলসহ অন্তত ৪০ আইনজীবী বরগুনায় গিয়ে মিন্নিকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মিন্নিকে আইনি সহায়তা দিতে একই আইনজীবী প্রতিনিধি দলের আগামী ২৩ জুলাই বরগুনায় যাওয়ার কথা থাকলেও আপাতত তারা যাচ্ছে না বলে জানান ফারুক আহমেদ। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমে দেখেছি মিন্নিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার দ্বিতীয় দিন তিনি নাকি রিফাত শরীফ হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তাই এ মুহূর্তে তিনি যেহেতু কারাগারে থাকবেন, তাই এ নিয়ে আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষায় থাকতে হবে। তবে আমরা বসে থাকব না। ১৬৪ ধারায় মিন্নির যে জবানবন্দির কথা বলা হচ্ছে তা প্রত্যাহার চেয়ে বরগুনার আদালতে আবেদন করা হবে।’
ফারুক আহমেদ আরও জানান, মিন্নির বাবার সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। তিনি কারাগারে মিন্নির সঙ্গে দেখা করার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি ওকালতনামায় মিন্নির স্বাক্ষর নিয়ে আসতে বলেছেন। এ ছাড়া স্থানীয় লিগ্যাল এইড অফিস ও মানবাধিকার কর্মীদের সঙ্গেও যোগাযোগের কথা বলেছেন।
ফারুক আহমেদ বলেন, ‘একজন নাগরিক হিসেবে সব ধরনের সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার মিন্নির প্রাপ্য। আমরাও অচিরেই তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সবরকম আইনি সহায়তা দেব।’
