জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলনে এসে স্ট্রোক করে সুলতান মো. ওয়াসি নামের এক শিক্ষার্থী মৃত্যুবরণ করেছেন। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৭/৮ ঘণ্টা দেরিতে সম্মেলন শুরু হওয়ায়, দীর্ঘ সময় প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন বলে তার সহপাঠীরা অভিযোগ করেছেন।
তিনি জবির ইংরেজি বিভাগে ১১তম ব্যাচের ২০১৫-২০১৬ সেশনের শিক্ষার্থী।
শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ঢাকা মেডিকেলের কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে জবির সহকারী প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, ওই শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা তাকে দ্রুত ন্যাশনাল মেডিকেলে নিয়ে যাই। সেখানে ইসিজি করে কর্তব্যরত ডাক্তার বলেন, আমরা তার কোন পালস পাচ্ছি না। আমি পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাম্বুলেন্স করে তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠিয়েছিলাম। পড়ে যোগাযোগ করা হলে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে থাকা তার সহপাঠী আমাদের জানান, অনেক চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারলাম না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্মেলনের শুরুতে ওয়াসিকে সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করতে দেখা গেছে। হঠাৎ করেই সম্মেলন স্থলের মূল মঞ্চের সামনে স্লোগান দিতে দিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। সাথে সাথেই তাকে নিয়ে জবি ক্যাম্পাসের পাশেই একটি বেসরকারি মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে সেখানে ওয়াসিকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলনের এসে শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তার সহপাঠীরা। ওয়াসির সহপাঠীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ১১ টার সম্মেলন শুরু হয় বিকেল তিনটায়। প্রচণ্ড গরমে অন্তত সাড়ে চার ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকে স্লোগান দিতে থাকে ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা। ফলে টানা ৭/৮ ঘণ্টার গরম সহ্য করতে না পেরে ওয়াসির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে, প্রচণ্ড গরমে জবির ১৩ ব্যাচের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী রাফিত অসুস্থ হয়ে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেলে ভর্তি রয়েছেন বলে খবর পাওয়া যায়।
