যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে দেশবিরোধী বক্তব্য দিয়ে এনজিওকর্মী প্রিয়া সাহার বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ করার চক্রান্তে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা জড়িত বলে সন্দেহ করছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা।
গতকাল শনিবার সরকারের দুই মন্ত্রী ও দলটির কেন্দ্রীয় দুই নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রিয়া সাহার ওই অনুষ্ঠানে যাওয়ার পেছনে এস কে সিনহা জড়িত। সেখানে কী বলতে হবে সে পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
এস কে সিনহার সঙ্গে প্রিয়া সাহার জানাশোনা আছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের ওই নেতারা বলেন, প্রাথমিকভাবে খোঁজখবর নিয়ে যতটুকু জানা গেছে, তাতে তার যোগসূত্র পাওয়া গেছে।
ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী ‘ধর্মীয় স্বাধীনতায় অগ্রগতি’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়া প্রিয়া সাহা ১৭ জুলাই হোয়াইট হাউজে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলেন, ‘বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা মৌলবাদীদের নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান নিখোঁজ হয়েছেন।’ তার এই বক্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
গতকাল রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় প্রিয়া সাহার বক্তব্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যরা বলেন, এস কে সিনহার যোগসাজশে প্রিয়া সাহা দেশবিরোধী চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছেন।
এ বিষয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে যে অভিযোগ প্রিয়া সাহা করেছেন, সেটি দেশদ্রোহী বক্তব্য। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই দেশের নাগরিক হয়ে দেশের বিরুদ্ধে এ ধরনের অসত্য, উদ্দেশ্যমূলক এবং দেশদ্রোহী বক্তব্য রেখেছেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে এবং সে প্রক্রিয়া চলছে।’
ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তিনি (প্রিয়া সাহা) যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটি আমি শুনেছি। এই বক্তব্যটি সম্পূর্ণ অসত্য ও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি একটি নিন্দনীয় অপরাধই শুধু নয়, এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দেশের অভ্যন্তরেও লুকায়িত মতলববাজ ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে সহায়তা করবে।’
আরেক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ কোন উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে তুলেছেন, সে বিষয়ে দেশে ফেরার পর প্রিয়া সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের খবর দেওয়ার পেছনে তার নিশ্চয়ই একটি কারণ ও উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রিয়া সাহা দেশে এলে নিশ্চয়ই আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করব।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তার উদ্দেশ্যটা কী, এটা আমাদের দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
