জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির ইংরেজি বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী ও সংগঠনটির কর্মী সুলতান মোহাম্মদ ওয়াসীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে ওই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী
শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর জন্য সোয়া দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের।
ছাত্রলীগকর্মীর মৃত্যুর বিষয়ে জবির সহকারী প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থী হঠাৎ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা তাকে দ্রুত ন্যাশনাল মেডিকেলে নিয়ে যাই। সেখানে ইসিজি করে কর্তব্যরত ডাক্তার বলেন, আমরা তার কোনো পালস পাচ্ছি না। পরে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠিয়েছিলাম।’ ছাত্রলীগকর্মীর সঙ্গে থাকা জবির এক ছাত্র বলেন, ‘আমরা অনেক চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারলাম না।’
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুস্থ-স্বাভাবিক ওয়াসী হঠাৎ করেই সম্মেলনস্থলের মূল মঞ্চের সামনে সেøাগান দিতে দিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গেই অন্যরা তাকে নিয়ে ন্যাশনাল মেডিকেলে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক অবস্থার অবনতি দেখে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
এদিকে ছাত্রলীগের সম্মেলনে কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন অন্য ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ওই শিক্ষার্থীর সহপাঠী কয়েকজনের অভিযোগ, সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা বেলা ১১টায়। সেখানে প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ক্যাম্পাসে আসেন সাড়ে ১২টায়। ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী সম্মেলনে উপস্থিত হন বিকেল পৌনে তিনটায়। প্রচণ্ড গরমে অন্তত সাড়ে চার ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকে সেøাগান দিতে থাকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
এদিকে প্রচণ্ড গরমে জবির ১৩তম ব্যাচের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগকর্মী রাফিত অসুস্থ হয়ে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেলে ভর্তি রয়েছেন বলে খবর পাওয়া যায়। সম্মেলনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘আমি আসছি সময়মতো। কিন্তু শোভন-রাব্বানী দেরিতে আসায় আমি আর থাকতে পারছি না।’ পরে ছাত্রলীগের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরে নতুন কমিটিকে শুভকামনা জানিয়ে সম্মেলন মঞ্চ ছাড়েন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের সঙ্গে তার সম্মেলনকক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অপেক্ষারত ছিলেন। ওই সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগ সদস্য কাজী নজীবুল্লাহ হীরু, জবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাচ্চু মিয়া, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু প্রমুখ। সম্মেলন চলাকালে ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে দ্বিতীয় অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করে দ্রুত জগন্নাথ ক্যাম্পাস ছাড়েন শোভন ও রাব্বানী।
