উত্তর প্রদেশের সোনভদ্রা গ্রামে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে নিহত দশ জনের পরিবারের সঙ্গে দেখা হয়েছে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর। ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগ এনে কংগ্রেসের প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে ওই গ্রামে যেতে প্রথমে বাধা দিয়েছিল উত্তর প্রদেশ পুলিশ।
কিন্তু নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা না করে দিল্লি ফিরবেন না এমন অনড় অবস্থান নেন প্রিয়াঙ্কা। মির্জাপুরের একটি গেস্ট হাউসে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আটকে রাখা হয় তাকে। ওই গেস্ট হাউসেই সারা রাত ধরনায় বসেছিলেন তিনি। এক পর্যায়ে গতকাল শনিবার সোনভদ্রায় নিহতদের স্বজনরা নিজেরাই প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে মির্জাপুরে দেখা করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আউটলুক ইন্ডিয়া জানিয়েছে, শুরুতে নিহতদের স্বজনদের প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে
দেখা করার জন্য গেস্ট হাউসে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। পরে সে আদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
নিহতদের স্বজনদের সান্ত্বনা দেন প্রিয়াঙ্কা। তাদের অশ্রু মুছে দেন। পরে সাংবাদিকদের প্রিয়াঙ্কা বলেন, পুলিশ ও প্রশাসন কী চাইছে তা তিনি বুঝতে পারছেন না। ‘তারা (পরিবারগুলো) আমার সঙ্গে দেখা করতে এখানে এসেছে, অথচ তাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না।’
এ সময় প্রিয়াঙ্কা গান্ধী গেস্ট হাউসের বাইরে দাঁড়িয়ে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি ফিরে আসব। তাদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় আমার উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছে।’ ঘটনাস্থল থেকে এক পুলিশ সদস্য এনডিটিভিকে জানান, কংগ্রেস নেত্রী চাইলে যেখানে খুশি যেতে পারেন। কিন্তু সোনভদ্রায় তিনি যেতে পারবেন না।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আরও বলেন, ‘সোনভদ্রায় হত্যাকাণ্ডের দায় যোগী সরকারের। তবু কংগ্রেস পার্টি নিহতদের প্রতি পরিবারকে দশ লাখ রুপি করে দেবে।’ এ সময় তিনি রাজ্য সরকারের কাছে পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যেÑ নিহতদের পরিবারপ্রতি ২৫ লাখ রুপি, সোনভদ্রা ঘটনার মামলা আদালতে জরুরি ভিত্তিতে তোলা, আদিবাসীদের ভূমির স্বীকৃতি ও নিরাপত্তা, গ্রামবাসীদের ওপর থেকে মিথ্যে মামলা প্রত্যাহার ও ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের বিষয় ছিল।
গত বুধবার উত্তর প্রদেশের সোনভদ্রা গ্রামে জমি নিয়ে সংঘর্ষের জেরে গুলিবিদ্ধ হয়ে ১০ জন নিহত হন। স্থানীয়দের মতে, গ্রামপ্রধান দুই বছর আগে ৩৬ একর আবাদি জমি কেনেন। বুধবার তিনি এবং তার সহযোগীরা ওই জমির দখল নিতে যান। গ্রামবাসীদের বাধার মুখে পড়লে গ্রামপ্রধানের সশস্ত্র সঙ্গীরা গ্রামবাসীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালান। যার ফলে ঘটনাস্থলেই নয়জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও বেশ কয়েকজন। নিহতদের মধ্যে চারজন নারীও রয়েছেন।
