মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের পর পুড়িয়ে হত্যা মামলায় আরও চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল রবিবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে উপস্থিত হয়ে আলিম পরীক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার, বিবি হাজেরা, আবু বকর ছিদ্দিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আকবর সাক্ষ্য দেন। জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট হাফেজ আহাম্মদ বলেন, ৯২ সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৩২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। আজ (সোমবার) পুলিশ কনস্টেবল রাসেল হোসেন, এসআই (শিক্ষানবিস) ডি এইচ এম জহির রায়হান ও মো. আরিফুর রহমান,
মো. আজহারুল ইসলাম এমরান ও মো. ওমর ফারুকের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছে আদালত।
গতকাল বেলা ১১টা থেকে সাক্ষ্য প্রদান শেষে সাক্ষীদের জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পিপি হাফেজ আহাম্মদ, এপিপি এ কে এস ফরিদ আহাম্মদ হাজারী ও এম শাহজাহান সাজু।
আদালত সূত্র জানায়, আবু বকর সিদ্দিক জবানবন্দিতে বলেন, ‘যখন দগ্ধ নুসরাতকে নামাচ্ছিল তখন তার গায়ে কোনো কাপড় ছিল না। আমি পাঞ্জাবি খুলে তার গায়ে পরিয়ে দিই। তখনো নুসরাতের শরীরের আগুন পাপোশ ও পানি দিয়ে নেভানোর চেষ্টা করছিলেন মাদ্রাসার পিয়ন ও পুলিশ কনস্টেবল। আমি তার পরিচয় জানতাম না। পরে জানতে পারি সেও এ মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী।’
জবানবনন্দিতে নুসরাতের সহপাঠী তাহমিনা ও হাজেরা বলেন, ‘৬ এপ্রিল পরীক্ষা হলে কাগজ দেওয়ার পর স্যার জিজ্ঞাসা করেনÑ কে কাগজ পায়নি? তখনো স্যারের হাতে একটি কাগজ রয়েছে। প্রায় ১৫ মিনিট পর তাহমিনার সামনের বেঞ্চে বসা কামরুন নাহার মনি হলে প্রবেশ করেন। এ সময় হল সুপার বেলায়েত হোসেন তাকে প্রশ্ন করেন, তুমি দেরি করলে কেন? মনি বলে, আমার পেটে ব্যথা ছিল। কিছুক্ষণ পর শুনি মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নুসরাতের গায়ে কারা যেন আগুন দিয়েছে।’
অন্যদিকে ব্যবসায়ী আকবর বলেন, ‘২৭ মার্চ নুসরাতের ওপর যৌন নিপীড়নের ঘটনার পর অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে সমাবেশ-মানববন্ধনে আমিও ছিলাম। সেখানে শাহাদাত হোসেন শামীমের সঙ্গে আমার দেখা হয়। নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার দিন সকাল সোয়া ১০টার দিকে শামীম আমাকে ফোন করে। বলে, হুজুরের বিরুদ্ধে মামলা করার মেয়েটি মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিজের গায়ে আগুন দিয়েছে। এ বিষয়ে আপনি কিছু জানেন কি? আমি বলি, এ বিষয়ে আমি জানি না। ঠিক আছে, খবর নিচ্ছি।’
গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১০ এপ্রিল রাতে মারা যান তিনি।
