ভয় জয় করা বাটলার

আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৯, ১০:৩৮ পিএম

ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয় এনে দেওয়া মুহূর্তটি এসেছিল জস বাটলারের হাতে। মার্টিন গাপটিলকে সুপার ওভারের শেষ বলে রান আউট করেছিলেন তিনি। উইকেট ভাঙার পর ট্রফি নিশ্চিত জেনে বাটলারই তো প্রথম ছুট দেন। এরপর থেকে হয়তো এখনো আনন্দের ঘোর কাটছে না তাদের। কিন্তু এমন যদি না হতো!

বিশ্বকাপ ফাইনাল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাটলারের মনে একই ভয় ঘুরছিল যদি হেরে যাই! এর আগে ভারতের সঙ্গে রাউন্ড রবিন ম্যাচের আগেও একই ভয় ছিল। ওই ম্যাচে হারলে তো সেমিফাইনালেও ওঠা হয় না স্বাগতিকদের। টুর্নামেন্টে দুবার এমন হারানোর ভয় জেঁকে ধরেছিল বাটলারকে। ভাবতেন, কিছু একটা ওলট-পালট হয়ে গেলে লোকে কী বলবে। নিজে লুকাবেন কোথায়! ব্যর্থতার ভয়ে ইংলিশ এই মারকুটে ব্যাটসম্যান এতটাই কাবু ছিলেন যে, টুর্নামেন্টের মাঝপথে দুবার টিম সাইকোলজিস্ট ডেভিড ইয়ংয়ের শরণাপন্ন হয়েছেন। পরে নিজে বুঝ দিয়েছেন এই বলে যে, লর্ডসে ফাইনাল জেতাটাই ইংল্যান্ডের ললাট লিখন।

শিরোপা জেতা হয়ে গেছে, ইংল্যান্ডের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী সদস্য হিসেবে  ইতিহাসও গড়েছেন। এবার ওই দিনগুলোর কথা ভেবে মুচকি হাসতে পারেন বাটলার। বিশ্বকাপ জয়ের পর প্রথমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ওই ভয়ের দিনগুলোর কথা জানালেন ইংলিশ ব্যাটসম্যান, ‘প্রথম ভারত ম্যাচের আগে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। ম্যাচটি আমাদের জন্য সেমিফাইনালের শেষ সুযোগ ছিল। এমন ম্যাচে ভারত প্রতিপক্ষ হওয়ায় চিন্তা আরও বেড়ে যায়। শুরু থেকেই আমাদের ফেভারিট বলা হচ্ছে, সবাই আমাদের হাতে শিরোপা দেখছে, চার বছরের কঠিন পরিশ্রম। সেমিফাইনালে না উঠলে সব কেমন হয়ে যাবে সেই চিন্তায় স্থির হতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছিল সবাই আমাদের নিয়ে হাসাহাসি করবে, চোকার বলবে, সবসময় এসব শুনতে হবে। এগুলোই মনে চলছিল। তখন ইয়ংয়ের কাছে যাই।’

ক্যারিয়ারে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে এই বিশ্বকাপের আগে মোট আটবার ফাইনাল খেলেছিলেন বাটলার। এর মধ্যে সাতবারই হেরেছেন। তাই ফাইনালের আগে আরও বড় দুশ্চিন্তায় পড়ে যান ল্যাঙ্কাশায়ার তারকা। সেই ব্যর্থতাগুলো কেমন তা তার জানা ছিল। আরও একবার এমন হতাশায় পড়তে চাননি। তাও আবার বিশ্বকাপ ফাইনাল হেরে, ‘রবিবারের (ফাইনাল) আগে আমি আটটি ফাইনাল খেলেছিলাম। সাতটিতে হেরে যাই। ২০১৩ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ফাইনাল ও ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল হার আমাকে সবচেয়ে বেশি পীড়া দেয়। আমি জানি ফাইনাল হারের দুঃখ বা হতাশা কেমন। আবারও এমন কিছু হওয়ার ভয় তাই খুব বেশি ছিল। আমার ফাইনাল ভাগ্য যে ভালো না এজন্য আরও বেশি দুশ্চিন্তায় ছিলাম। ভাবছিলাম, যদি এবার ফাইনাল হেরে যাই তবে ক্রিকেট চালিয়ে যেতে পারব কি না জানি না। ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনাল জেতা “জীবনে একবার” এমন মুহূর্ত। এখানে হেরে গেলে কীভাবে ব্যাট তুলে নেব তা মাথায় আসছিল না। এদিক থেকে ইয়ং আমাকে সাহস জুগিয়েছে।’

অবশেষে বাটলার নিজের প্রশ্নগুলোর উত্তর পেয়েছেন। নিজের হাতেই ফাইনাল দুর্ভাগ্য দূর করার সুযোগ পেয়েছেন। নিশ্চিত করেছেন ক্যারিয়ারের ‘জীবনে একবার’ আসা সুযোগটিতে হারেননি। ব্যাট স্পন্সর প্রতিষ্ঠান কুকাবুরার ফ্যাক্টরিতে বসে নিজের বিশ্বকাপ মুহূর্তগুলো শেয়ার করছিলেন বাটলার। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ জয়ের হাসিও ছড়াচ্ছিলেন বাকিদের মাঝে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত