দুর্বৃত্তের গুলিতে সাতক্ষীরা ও বান্দরবানে দুই আওয়ামী লীগ নেতা নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার এ ঘটনা ঘটে। সাতক্ষীরায় নিহত নজরুল ইসলাম (৪৫) সদর উপজেলার আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন। অন্যদিকে মং মং
থোয়াই মারমা (৫০) বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
সাতক্ষীরা : বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার কাশেমপুর হাজামপাড়া মোড়ে দুর্বৃত্তরা গুলি করে আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলামকে হত্যা করে। তিনি আগরদাঁড়ি ইউনিয়নের কুঁচপুকুর গ্রামের বাসিন্দা। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হবি জানান, নজরুল কদমতলা থেকে বাজার করে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলযোগে কয়েকজন দুর্বৃত্ত পেছন থেকে এসে দুই রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে তিনি মারা যান। নজরুলের ছেলে পলাশ হোসেন জানান, স্থানীয় সাবেক মেম্বার তৌহিদুলের সঙ্গে তার বাবার বিরোধ চলছিল। এর জেরে তৌহিদের লোকজন তাকে হত্যা করতে পারে।
সাতক্ষীরার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো. ইলতুৎমিশ জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকারীদের ধরতে পুলিশ মাঠে নেমেছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।
এর আগে ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর সন্ত্রাসীরা নজরুলের বড় ভাই সিরাজুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করে। ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল সিরাজুলের বড় ছেলে ওই ইউনিয়নের যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল কবিরকে খুন করে দুর্বৃত্তরা।
বান্দরবান : দুপুর ১টার দিকে রোয়াংছড়ি থেকে মোটরসাইকেলে বান্দরবান সদরে যাওয়ার পথে শামুকঝিরির আলেক্ষ্যং রাস্তার মোড়ে মং মং থোয়াই মারমাকে (৫০) গুলি করে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রোয়াংছড়ি থানার ওসি শরীফুল ইসলাম জানান, ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী পাইনি। ঘটনাস্থলের আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে গুলির দুটি খোসা পাওয়া গেছে। হত্যার তদন্ত চলছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘জনসংহতি সমিতির সন্ত্রাসীরা আমাদের থ্রেট জানানোর অংশ হিসেবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তাদের হত্যার তালিকায় আমরা আরও অনেকেই আছি।’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে জনসংহতি সমিতির জেলা সভাপতি উছোমং মারমার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। দলটির সাধারণ সম্পাদক কারাগারে থাকায় অন্য নেতারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
