দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যার নেতৃত্বে একটি দল রাজধানীর দারুস সালাম এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় র্যাবের একটি দলের সহায়তা নেওয়া হয়। নিজের বাসা শাহজাহানপুরে হলেও তিনি দারুস সালাম থানা এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় আত্মগোপন করে ছিলেন। কমিশনের জনসংযোগ শাখার উপপরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানান।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গত ১৭ জুলাই বাছিরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। সংস্থাটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই মামলার অপর আসামি ডিআইজি মিজানকে গত রবিবার গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেয় আদালত। তিনি অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় আগে থেকে কারাগারে রয়েছেন।
গ্রেপ্তারের পর রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে বাছিরকে রমনা থানায় নেওয়া হয়। রাত ১টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাছিরের কোনো আত্মীয়স্বজনকে থানায় ঢুকতে দেখা যায়নি। বাছিরকে ভেতরে নেওয়ার পর থানার প্রধান ফটক আটকে দেওয়া হয়। গণমাধ্যমকর্মীদের সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
রমনা থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম রাত সাড়ে ১২টায় দেশ রূপান্তরকে জানান, বাছিরকে থানার হাজতে রাখা হয়েছে এবং তার পাহারায় রয়েছেন দুদকের দুজন কনস্টেবল।
ডিআইজি মিজানের সঙ্গে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের তদন্ত শুরুর পর দুদক থেকে বরখাস্ত হন এনামুল বাছির। পরে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। ডিআইজি মিজানের সম্পদ অনুসন্ধানে গিয়ে তার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে এখন নিজের সংস্থার কর্মকর্তাদের হাতে গ্রেপ্তার হতে হলো বাছিরকে। এক নারীকে জোর করে বিয়ের পর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠায় গত বছরের জানুয়ারিতে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় মিজানুর রহমানকে। এর চার মাস পর তার সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক; এক হাত ঘুরে সেই অনুসন্ধানের দায়িত্ব পান এনামুল বাছির। সেই অনুসন্ধান চলার মধ্যেই ডিআইজি মিজান গত ৮ জুন দাবি করেন, দুদক কর্মকর্তা বাছির তার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এর পক্ষে তাদের কথোপকথনের কয়েকটি অডিও ক্লিপ একটি টেলিভিশনকে দেন তিনি। ওই অডিও প্রচার হওয়ার পর দেশজুড়ে শুরু হয় আলোচনা।
ডিআইজি মিজান দাবি করেন, সব জেনেশুনেই তিনি কাজটি করেছেন। নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বাছির যে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’, তা প্রমাণে ‘বাধ্য হয়ে’ এই কাজ করেন তিনি। তবে বাছির ডিআইজি মিজানের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলে আসছিলেন, ‘সব বানোয়াট’। কিন্তু দুদকের পরিচালক ফানাফিল্যার এক চিঠিতে প্রকাশ পেয়েছে যে বাছিরের ঘুষ নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছেন তারা।
দুদক কর্মকর্তা ফানাফিল্যা বাদী হয়ে করা মামলার এজাহারে বলা হয়, ‘খন্দকার এনামুল বাছির সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কমিশনের দায়িত্ব হতে অর্পিত দায়িত্ব পালনকালে অসৎ উদ্দেশ্যে নিজে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশায় ক্ষমতা অপব্যবহারের মাধ্যমে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ডিআইজি মিজানুর রহমানকে অবৈধ সুযোগ প্রদানের হীন উদ্দেশ্যে তার অবৈধ পন্থায় অর্জিত অপরাধলব্ধ ৪০ লাখ টাকা উৎকোচ/ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করে উক্ত টাকার অবস্থান গোপন করেন।’
