১০০ কোটি টাকা বা তার বেশি অঙ্কের খেলাপি ঋণের হিসাবগুলো নিবিড় তদারকিতে আনতে নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ধরনের ঋণহিসাব তদারকিতে সব ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট উপব্যবস্থাপনা পরিচালককে (ডিএমডি) প্রধান করে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়ে বিশেষ তদারকি সেল গঠন করতে বলা হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। বড় অঙ্কের এসব ঋণখেলাপির তথ্য তিন মাস অন্তর বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।
গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এ কে এম মহিউদ্দিন আজাদ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) কাছে পাঠানো হয়েছে।
ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ নিয়ে নানামুখী আলোচনার মধ্যে গত ২২ জুন সংসদে শীর্ষ ৩০০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫০ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা। গত এপ্রিলভিত্তিক সিআইবির (ঋণ তথ্য ব্যুরো) প্রতিবেদনের আলোকে প্রকাশিত তালিকায় দেখা যাচ্ছে, এতে শতকোটি টাকার বেশি খেলাপি প্রতিষ্ঠান ১৭৭টি। এ তালিকায় রয়েছে দেশের বহুল সমালোচিত হলমার্ক, বিসমিল্লাহ, ক্রিসেন্ট, এননটেক্স, এসএ গ্রুপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে বিভিন্ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৯০ কোটি টাকা। গত মার্চ পর্যন্ত সাব স্ট্যান্ডার্ড ১০ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বাদে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২৬৮ কোটি টাকা। অবলোপন করা খেলাপি ঋণ ছিল ৩৭ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। এসব খেলাপি ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রয়েছে শীর্ষ ১৭৭ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের কাছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনতে অন্য সব খেলাপি ঋণসহ ১০০ কোটি টাকা এবং তার বেশি স্থিতির খেলাপি হিসাবগুলো নিবিড় তদারকি একান্ত দরকার। প্রতিটি ব্যাংক এসব খেলাপি হিসাব তদারকির জন্য বিশেষ সেল গঠন করবে। এই সেল ১০০ কোটি টাকা বা তার বেশি স্থিতিবিশিষ্ট খেলাপি ঋণ আদায় বাড়ানো এবং খেলাপি ঋণ ও খেলাপি ঋণগ্রহীতার সংখ্যা কমাতে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। প্রতি তিন মাস অন্তর ১০০ কোটি টাকা বা তার চেয়ে বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ হিসাবগুলোর আদায় অগ্রগতিসহ যাবতীয় তথ্য নিজ নিজ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে অবহিত করবে। এছাড়া ত্রৈমাসিক বিবরণী বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের টাস্কফোর্স সেলে দাখিল করবে। এ বিবরণীতে দেখানো খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ বা অন্য কোনো কারণে নিয়মিত বলে গণ্য হলেও নিয়মিত হওয়ার তারিখ হতে পরবর্তী আটটি ত্রৈমাসিক পর্যন্ত তা বিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত রাখতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে বিবরণীর যথাযথ পর্যালোচনা নিশ্চিত করবে। এ ক্ষেত্রে ঋণের বকেয়া আদায়ের জন্য ব্যাংক ব্যবস্থাপনা কর্র্তৃপক্ষ একটি সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে এবং পরিচালনা পর্ষদ নিয়মিতভাবে তার বাস্তবায়ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।
