বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের পরিকল্পনার বড় অংশ জুড়ে ছিলেন মোহাম্মদ মিঠুন। কিন্তু মাত্র তিন ম্যাচ দেখেই ব্যর্থতার দায়ে একাদশে জায়গা হারাতে হয় তাকে। তার জায়গায় সুযোগ পান লিটন দাস।
শ্রীলঙ্কা সফরে অবশ্য ছুটিতে লিটন। মিঠুনের ওপর তাই ভরসা রাখতেই হয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। ২৮ বছর বয়সী ব্যাটারও অবশ্য বার্তা দিয়ে রাখলেন ছন্দে ফেরার। মূল সিরিজ শুরুর আগে মঙ্গলবার একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে শ্রীলঙ্কা বোর্ড প্রেসিডেন্ট একাদশের বিপক্ষে করলেন ৯১ রান। দলের জয়ে রাখলেন বড় ভূমিকা।
দ্বিপ দেশটিতে উড়ে যাওয়ার আগে চট্টগ্রামে ‘এ’ দলের হয়েও মিঠুন খেলেছেন বড় ইনিংস। আফগানিস্তান ‘এ’ দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় আন-অফিশিয়াল ওয়ানডেতে করেন ৮৫ রান। দুটি ইনিংসই তিন নম্বরে নেমে খেলেছেন মিঠুন। শ্রীলঙ্কা সফরে ব্যাটিংয়ে সাকিব আল হাসানের বিকল্প নিয়ে তাই নির্ভাবনায় থাকতেই পারে বাংলাদেশ!
বিশ্বকাপে অবিশ্বাস্য রকমের ছন্দে ছিলেন সাকিব আল হাসান। বোলিং এবং ব্যাটিং দুই বিভাগেই অনন্য ছিলেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেরা অলরাউন্ড নৈপুণ্যের নজির গড়েন বাংলাদেশি অলরাউন্ডার। ব্যাট হাতে ৬০৬ রান ও বল হাতে নেন ১১ উইকেট। আসর শেষে সাকিব ব্যাটিংয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় ছিলেন তিন নম্বরে। তার ৮ ইনিংসের ৭টিই ছিল ফিফটি ছোঁয়া। ৫টি ফিফটির সঙ্গে দুটি সেঞ্চুরি।
সেই সাকিবের না থাকা মানে অনেক বড় অপূর্ণতা। দলে একই সঙ্গে একজন ব্যাটসম্যান ও বোলারের ঘাটতি। বোলিংয়ের কথা চিন্তা করে সাকিবের বিকল্প হিসেবে তাই নেওয়া হয়েছে তাইজুল ইসলামকে। আর বিশ্বকাপ জুড়ে তিন নম্বরে দুর্দান্ত ব্যাট করা সাকিবের জায়গা পূরণ করবে কে সে নিয়ে ছিল ভাবনা। এদিনের প্রস্তুতি ম্যাচে তিন নম্বরে ব্যাট করলেন মিঠুন। আফগানিস্তান ‘এ’ দলের বিপক্ষে দুটি ম্যাচও খেলেছেন তিনি তিন নম্বরে। অর্থাৎ ব্যাটিংয়ে সাকিবের বিকল্প বলাই যায় তাকে। যে জায়গাটায় আপাতত নির্ভরতার কথাই বলছেন মিঠুন।
পি সারা ওভালে তার ১০০ বলে করা ৯১ রানের ইনিংসে জয় তুলে নেওয়া বাংলাদেশের। ১১টি চারের সঙ্গে ১টি ছক্কা হাঁকান মিঠুন। তবে সেঞ্চুরি করতে না পারাটা আক্ষেপই জাগাল। সুযোগ পেয়েও সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেছিলেন তিনি আফগানিস্তান ‘এ’ দলের বিপক্ষেও। দ্বিতীয় ম্যাচটিতে ৯৪ বলে ৮৫ রান করেন ৫ চার ও ৪ ছক্কায়।
‘এ’ দলের হয়ে প্রথম দুই ওয়ানডে খেলার জন্যই তামিম-মুশফিকদের সঙ্গে শ্রীলঙ্কা পাড়ি দেওয়া হয়তো মিঠুনের। গিয়েছেন পরের ধাপে। তাতে লাভবানই হয়েছেন তিনি। ব্যাটে ছন্দটা খুঁজে পেয়েছেন তো ‘এ’ দলের হয়েই।
