আমানত প্রত্যাহারে ব্যাংকের চাপ

বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ চায় এনবিএফআইগুলো

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৯, ১২:১৩ এএম

ব্যাংক থেকে আমানত প্রত্যাহারের চাপ থেকে মুক্তি পেতে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) শীর্ষ কর্মকর্তারা। আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের অবসায়নে গ্রাহকদের যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তাতে ব্যাংক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি কর্তৃক আমানত প্রত্যাহারের চাপে তারল্য সংকট তৈরি হয়েছে এনবিএফআইগুলোতে। এ কারণে কিছুসংখ্যক এনবিএফআই গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ব্যাংকগুলোর আমানত প্রত্যাহারের চাপ থেকে মুক্তি পেতে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এনবিএফআই’র শীর্ষ কর্মকর্তারা। বৈঠকে বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফিনান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. খলিলুর রহমান, আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ খানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে গভর্নর ফজলে কবির বলেন, গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এনবিএফআইগুলোর উচিত হবে কোনো চেক যাতে প্রত্যাখ্যান (ডিজঅনার) করা না হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক কর্তৃক এনবিএফআই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আমানত প্রত্যাহারের চাপ সম্পর্কে আইডিএলসি ফিনান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ খান বলেন, এ বিষয়ে আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা চেয়েছি। এছাড়া আমরা ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছি, যাতে তারা অর্থায়ন চলমান রাখে। এনবিএফআই থেকে তহবিল প্রত্যাহার হলে খাতটির জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না। এছাড়া এনবিএফআইগুলোতে ব্যাংকগুলোর ঋণসুবিধাও চালু থাকবে বলে আরিফ খান আশা প্রকাশ করেন।       

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সাবেক কমিশনার আরিফ খান বলেন, প্রথম কয়েক দিন (বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক পিপলস লিজিং অবসায়ন প্রক্রিয়ার শুরুতে) ব্যাংকগুলো থেকে আমানত প্রত্যাহারের চাপ আসে। কিন্তু ব্যাংকগুলো ধীরে ধীরে আমানত তুলে নেওয়ার মাধ্যমে এ চাপ কমিয়ে আনতে পারে। দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দিতে ভালো প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তাব ছিল কি না জানতে চাইলে আইডিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের পক্ষ থেকে আগামী দিনের জন্য সহায়তা পেতে এখানে এসেছি।

নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাংকগুলোর আমানত প্রত্যাহারের বিষয়ে রোববারের ব্যাংকার্স মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে সভায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে আমানত প্রত্যাহার না করতে বাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। তবে মঙ্গলবারের সভায় ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা কমাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্ধের মতো দীর্ঘমেয়াদি তহবিল অনুসন্ধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষায় বিশেষ স্কিম ঘোষণা করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ খাতের পুনরুদ্ধারে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন। আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে নীতি-সহায়তা দেওয়ার আশ^াস দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এনবিএফআই খাতের কোনো সমস্যা গোটা ব্যাংকিং খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে এ খাতের সংস্কার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গ্রাহকের অর্থ কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ৩২ ব্যাংকের মধ্যে ৫টিতে এ ধরনের সমস্যা রয়েছে। যেখানে আমানতকারীদের অর্থ দেওয়ার সামর্থ্য ২৯ এনবিএফআই’র রয়েছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত