অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নির্বাচন আলো ফিরবে তো?

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৯, ০৩:৫৯ এএম

গতকাল ছিল বহুল প্রতীক্ষিত অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনজন। এর মধ্যে দুজনের রয়েছে ফেডারেশন পরিচালনার অভিজ্ঞতা। আরেকজন একেবারেই নতুন মুখ।

দীর্ঘদিন অ্যাডহক কমিটি দিয়ে পরিচালিত হওয়ার পর সম্প্রতি এই ফেডারেশনের নির্বাচনের উদ্যোগ নেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। ১২০ জন কাউন্সিলর ২৮টি পদের জন্য প্রার্থী বেছে নেবেন ভোটাধিকার প্রদানের মাধ্যমে আগামী ৩ আগস্ট। গুরুত্বপূর্ণ এই ক্রীড়া ফেডারেশনের নির্বাচন নিয়ে যতটা তোড়জোড় দেখা যাচ্ছে প্রার্থীদের মধ্যে, তাতে আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে অন্ধকারে ডুবে থাকা দেশের অ্যাথলেটিক্স ফের আলোর মুখ দেখবে। কিন্তু সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে শুরু করে অন্যান্য পদে আগ্রহী দেখে খুব বড় আশাও যে করতে পারছেন না অ্যাথলেটিক্স সংশ্লিষ্টরা।

এই ফেডারেশনে সর্বশেষ নির্বাচিত অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৩ সালে। সেটি অবশ্য নির্বাচনের নামে ছিল আনুষ্ঠানিকতা। একটি প্যানেল গঠন করে দায়িত্ব নিয়েছিল ইব্রাহিম চেঙ্গিস নেতৃত্বাধীন কমিটি। সেই কমিটির বিরুদ্ধে অ্যাথলেটিক্সকে ধ্বংসের অভিযোগ। খেলাটিতে নেমে আসে দীর্ঘ স্থবিরতা। অ্যাথলেটিক্সের আন্তর্জাতিক সংস্থা পর্যন্ত কালো তালিকাভুক্ত করে বাংলাদেশকে। ২০১৭ সালে মেয়াদপূর্তির পর নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছিল সে বছর ২৯ মার্চ। কিন্তু ১৫ মার্চ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে। পরিষদের সাবেক সচিব এম এম আলী কবিরকে সভাপতি বহাল রেখে সাধারণ সম্পাদক করা হয় একেবারেই নতুন মুখ আব্দুর রকীব মন্টুকে। তার নেতৃত্বাধীন এডহক কমিটি দায়িত্ব নিয়েই নানারকম প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়। ধীরে ধীরে ফেডারেশনের অচলাবস্থা কাটানোর চেষ্টা চালিয়ে গেছেন মন্টু। আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মতো উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নেয় অ্যাডহক কমিটি। যদিও খেলাটির মান রয়ে যায় একই তিমিরে। বিচ্ছিন্ন কিছু আন্তর্জাতিক আসরে অ্যাথলেট পাঠানো ছাড়া আক্ষরিক অর্থে খেলাটির উন্নয়নের তেমন কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি অ্যাডহক কমিটিকে। এবারও মন্টু নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক পদে।

মন্টুর বিপক্ষে লড়বেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং তারকা অ্যাথলেট শাহ আলম এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলর সাদাত হোসেন সোহেল। বিগত এক দশকে, তিনি বিভিন্ন পরিচয়েই যুক্ত ছিলেন ফেডারেশনের সঙ্গে। ইব্রাহিম চেঙ্গিস দায়িত্ব নেওয়ার আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শাহ আলম। এরপর চেঙ্গিসের কমিটির

সহ-সভাপতি ছিলেন। অ্যাডহক কমিটিতেও একই পদে দেখা গেছে তাকে।

নির্বাহী পদটির জন্য ধরে নেওয়া যায় লড়াইটা হবে মন্টুর সঙ্গে শাহ আলমের মধ্যে। নির্বাচিত হতে পারলে কীভাবে খেলাটাকে এগিয়ে নেবেন, প্রশ্নটি রাখা হয়েছিল মন্টু এবং শাহ আলমের কাছে। জবাবে মন্টু বলেছেন, পশ্চাৎপদ খেলাটির অতীত ঔজ্জ্বল্য ফিরিয়ে আনতে সময় প্রয়োজন, ‘আমাদের অ্যাথলেটিকস এক সময় ভালো অবস্থানে ছিল, মাঝে নেতৃত্বের দুর্বলতায় মলিন হয়ে গেছে। শেষ দুই বছরে অ্যাডহক কমিটি বিভিন্ন কোচিং-ট্রেনিং প্রোগামের মাধ্যমে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছে। উন্নয়নটা রাতারাতি হবে না। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে অ্যাথলেট বাড়াতে হবে।’

শাহ আলম কোচ থাকাবস্থায় স্বর্ণপদক জিতেছে বাংলাদেশ। সাবেক এই তারকার দাবি, পদক জয়ের মন্ত্রটা তার জানা। প্রতিপক্ষ প্যানেলের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও করেছেন, ‘ভয়-ভীতি দেখিয়ে অনেককেই আমাদের প্যানেলের হয়ে নির্বাচন করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাই আমরা পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিতে পারিনি।’ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বীকে অসফল দাবি করে শাহ আলম বলেন, ‘মন্টু তো ভালো অ্যাথলেটও ছিল না। তার টেকনিক্যাল অভিজ্ঞতা নেই, তাই তার পক্ষে খেলাটিকে এগিয়ে নেওয়া কঠিন। আমার কোচিংয়ে স্বর্ণ এসেছে অতীতে। তাই আমি চেষ্টা করব সেই সুদিন ফিরিয়ে আনতে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত