বাজারের সব ডিটারজেন্টে ক্যানসারের উপাদান

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৯, ০৮:১৭ পিএম

বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া যায় এমন সব ব্র্যান্ডের ডিটারজেন্টে মানবদেহে ক্যানসার সৃষ্টির জন্য দায়ী ‘ফ্লুরোসেন্ট হোয়াইটেনিং’ নামক একটি ক্ষতিকর পদার্থের পরিমান স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি বলে জানা গেছে গবেষণায়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মো. নাহিন মোস্তফা নিলয়ের গবেষণায় উঠে এসেছে এ বিষয়টি। 

গবেষণায় তার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন একই বিভাগের অধ্যাপক ড. শফি মুহাম্মদ তারেক। ডিটারজেন্টের মধ্যে ফ্লুরোসেন্ট হোয়াইটেনিং এজেন্ট এর প্রবলতা স্পেক্ট্রোফটোমিটার ও থ্রি ডি এক্সাইটেশন এমিশন ম্যাট্রিক্সের সাহায্যে নির্ণয় করা হয়েছে বলে জানান তারা। 

গবেষণায় দেখা যায়, ক্ষতিকর পদার্থটির উপস্থিতি মানবদেহে এলার্জি, চর্মরোগ, জীনগত পরিবর্তন, কিডনি বিকল এবং অতিবেগুনি রশ্মির সঙ্গে বিক্রিয়া করে মানবদেহে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী পদার্থে রূপান্তরিত হতে পারে। ক্ষতিকর এজেন্টটি চূড়ান্ত পানি শোধনাগারে শোধন করা হলেও সম্পূর্ণভাবে দূর করা যায় না। বাংলাদেশের প্রমত্তা পদ্মা নদীর পানিতেও উপাদানটির অস্তিত্ব গবেষণায় পাওয়া গেছে। বছরের প্রতিমাসে একবার করে পদ্মা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। প্রতিবারই পানিতে এর উপাদান পাওয়া গেছে। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকের পানিতেও উপাদানটির অস্তিত্ব রয়েছে।

গবেষক নাহিন জানান, বাংলাদেশে ফ্লুরোসেন্ট হোয়াইটেনিং এজেন্ট হিসেবে টিনোপল নামক রাসায়নিক পদার্থ অধিকাংশ ডিটারজেন্টে ব্যবহার করা হয়। এটি মূলত জামা কাপড়ের উজ্জলতা বৃদ্ধির জন্য ডিটারজেন্টে ব্যবহার করা হয়। এগুলো বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানায় পোশাক ধোয়ার কাজে বহুল ব্যবহৃত হয়। যা পরবর্তীতে নদী নালা ও লেকের পানিতে মিশে যায়। 

এ বিষয়ে গবেষক মো. নাহিন মোস্তফা নিলয়  জানান, ‘আমরা মঞ্জুরি কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন জানাব। তার আগে জনস্বার্থে এর একটা অংশ প্রকাশ করা হলো।’ 

গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক শফি মুহাম্মদ তারেক দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা গবেষণায় যে রেজাল্টটি পেয়েছি সেটা এলার্মিং। মানবদেহের জন্য খুব ক্ষতিকর। ডিটারজেন্টে উপাদানটি ব্যবহার করতে হয়, কিন্তু এর একটা মাত্রা আছে। বাজারের ডিটারজেন্টের যে মাত্রা পাওয়া গেছে তা স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। এটা খুব উদ্বেগজনক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত