র‌্যাগিংয়ে কান ফাটলো জাবি শিক্ষার্থীর

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৯, ০৯:২৩ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়ে প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীর কান ফেটে রক্ত বের হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

র‌্যাগিংয়ের শিকার মো. ফয়সাল আলম নামের ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের প্রথম ৪৮তম ব্যাচে অধ্যয়নরত। 

এই ঘটনার অভিযোগ উঠেছে মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শিহাবের বিরুদ্ধে। র‌্যাগিংয়ের শিকার এই শিক্ষার্থী এ বিষয়ে বুধবার সংশ্লিষ্ট হলের  প্রভোস্টের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছেন। 

তবে শিহাব এ ধরনের কিছু ঘটেনি বলে দাবি করেছেন।

ঘটনা সম্পর্কে হলটির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা জানান, সোমবার রাত ১২টার দিকে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের র‌্যাগ দিতে দ্বিতীয় বর্ষের ৩০ থেকে ৩৫ শিক্ষার্থী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের গণরুমে যান। তারা বেছে বেছে প্রথম বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পরিচয় দিতে বলেন। এ সময় ফয়সাল আলমকে পরিচয় দিতে বলেন মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শিহাব।

তারা বলেন, ফয়সাল একবার পরিচয় দেওয়ার পর তাকে আবার পরিচয় দিতে বলা হয়। ফয়সাল জোরে জোরে আরও তিন থেকে চারবার পরিচয় দেন। এরপর দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা তাকে নানারকম ‘বিকৃত শারীরিক অঙ্গভঙ্গি' করতে নির্দেশ দিলে ফয়সাল জানান, তার এক হাত কেটে গেছে, তিনি এগুলো কসরত করতে পারবেন না। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফয়সালকে পরপর দুইটি থাপ্পড় দেন শিহাব। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফয়সালের কান থেকে রক্ত পড়তে শুরু করে।

র‌্যাগিংয়ের সময় শিহাবের সঙ্গে ইতিহাস বিভাগের সারোয়ার শাকিল, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের তামীম, সোহান ও আকাশ, পরিসংখ্যান বিভাগের তাওহীদ, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের নাঈম, উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সম্রাটসহ দ্বিতীয় বর্ষের (৪৭ তম ব্যাচ) ৩০ থেকে ৩৫ ছাত্র উপস্থিত ছিলেন বলে জানান প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা। 

পরে ভোর ৪টার দিকে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নেয়া হয় ফয়সালকে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফয়সালকে আবার হলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ অবস্থায় পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে তার কান থেকে আবার রক্ত পড়তে শুরু করলে তিনি সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান।

প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, র‌্যাগিংয়ের ঘটনা কাউকে জানালে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের হলে থাকতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা। এই ভয়ে মঙ্গলবার রাতে ওই হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা হল থেকে বের হয়ে যান। তারা  সারারাত ক্যাম্পাসের সুইমিং পুল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ খোলা জায়গায় ছিলেন।

র‌্যাগিংয়ের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিহাব জানান তিনি এধরণের কোনো ঘটনার কথা জানেনই না। তবে ওই দিন রাতে গণরুমে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। 

দ্বিতীয় বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী  সারোয়ার শাকিল বলেন, ‘সোমবার রাতে আমার এক বন্ধু ফয়সালকে থাপ্পড় দেন। এরপর সে অসুস্থ্য হয়ে গেলে আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু তাদের কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘র‌্যাগিংয়ের ঘটনা জানার পরপরই সংশ্লিষ্ট হল প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। যেহেতু হলের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তাই হল প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। হল প্রশাসন সহায়তা চাইলে প্রক্টরিয়াল টিম সব ধরনের সহায়তা করবে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ  বলেন, ‘ ঘটনা শুনেছি। আজ রাতের মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি করে প্রক্টর অফিসে পাঠানো হবে। র‌্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত