দেশ রূপান্তরকে মন্ত্রীর অভিনন্দন

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৯, ০১:৪৫ এএম

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত আবাসিক ভবনে আসবাবপত্র কেনা ও তা ভবনে তোলা নিয়ে দৈনিক দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনটির প্রশংসা করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেছেন, ‘আমি প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিলাম যে, এত বড় একটি দুর্নীতির নিউজ এলো, আর আমিই এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। আমি আগেই বলেছি যে, সমালোচনা করার মতো ক্ষেত্র থাকলে তা তুলে ধরেন। সেটাই হতে পারে আমাদের পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি ভিত্তি। সেক্ষেত্রে দেশ রূপান্তর পত্রিকাকে সুনির্দিষ্টভাবে সেই রিপোর্টটি প্রকাশ করার জন্য আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে অন্য যেসব প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যম এ বিষয়ে জোরালে ভূমিকা রেখেছে তাদেরও ধন্যবাদ জানাই।’

গত ১৬ মে দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকায় ‘কেনা-তোলায় এত ঝাঁজ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রতিটি বালিশ কেনা হয়েছে ৬৬৭৫ টাকা দিয়ে। আর সেসব বালিশ ভবনের বিভিন্ন তলায় উঠাতে খরচ করা হয়েছে ৭৪০ টাকা করে। প্রতিটি ফ্রিজ কেনা হয়েছে ৭২ হাজার টাকা দিয়ে। আর সেগুলো ভবনে উঠাতে খরচ করা হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা করে। প্রতিটি ওয়াশিং মেশিন কেনা হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা দিয়ে। আর সেগুলো উঠাতে খরচ হয়েছে ৩০ হাজার ৪১৯ টাকা করে। প্রতিটি ড্রেসিং টেবিল কেনা হয়েছে ২১ হাজার ২১৫ টাকা আর সেগুলো ভবনে উঠাতে খরচ হয়েছে ৮ হাজার ৯১০ টাকা করে। প্রতিটি ইলেকট্রিক কেটলি কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৩১৩ টাকা দিয়ে। সেগুলোর প্রত্যেকটি ভবনে উঠানো হয়েছে ২ হাজার ৯৪৫ টাকায়। প্রতিটি ইলেকট্রিক আয়রন কেনা হয়েছে ৪ হাজার ১৫৪ টাকা দিয়ে। সেগুলো ভবনে উঠাতে খরচ হয় ২ হাজার ৯৪৫ টাকা করে। প্রতিটি রুম পরিষ্কারের মেশিন কেনা হয়েছে ১২ হাজার ১৮ টাকায় এবং সেগুলো ভবনে উঠাতে খরচ হয়েছে ৬ হাজার ৬৫০ টাকা করে। প্রতিটি চুলা কেনা হয়েছে ৭ হাজার ৭৪৭ টাকা দিয়ে আর তা ভবনে উঠাতে খরচ হয়েছে ৬ হাজার ৬৫০ টাকা।

এসব অনিয়ম সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পর সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি করা হয়। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুজ্জামানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেনÑ গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এম এইচ এম শফিকুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুর রহিম রিপন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী প্রধান নজরুল ইসলাম। অন্য কমিটিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ড. মইনুল ইসলামকে প্রধান করা হয়। দুই কমিটিই বিস্তর পর্যালোচনা করে সরকারের এ অগ্রাধিকার প্রকল্পে অনিয়মের তথ্য পায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত